ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে সেলেসাওদের পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেইমার জুনিয়র। পেনাল্টি নেওয়ার আগে নরওয়ের গোলকিপার ওরিয়ান নাইল্যান্ডের সঙ্গে বাক্যবিনিময় হয় নেইমারের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়, পেনাল্টির আগে দুই ফুটবলার একে অপরকে উসকানিমূলক কথা বলেন। পেনাল্টির আগে নেইমার ও নাইল্যান্ডের মধ্যে হওয়া কথোপকথন প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ফান্তাস্তিকো।
ভিডিওতে দেখা যায়, পেনাল্টি নেওয়ার আগে নেইমার গোলকিপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নেইমার: ‘(বলটা) কোন দিকে চাস? কোন দিকে মারব বল?’ জবাবে নাইল্যান্ড বলেন, ‘ জবাবে নাইল্যান্ড বলেন, ‘পোস্টে, পোস্টে। তবে আমি এটা ঠেকিয়ে দেব! দেখে নিস আমি এটা আটকে দেব!’
এরপর নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান নেইমার। নাইল্যান্ড নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে কেবল বলের যাওয়া দেখেন। গোল করার পরপরই নরওয়েজীয় গোলকিপারকে উদ্দেশ্য করে নেইমার বলেন, ‘আমার সঙ্গে এই চালাকি চলবে না! আমার সঙ্গে নয়!’
তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলের প্রথম পেনাল্টিটি নেন ব্রুনো গিমারায়েস। তখনও গোলশূন্য ছিল ম্যাচ। বাঁ দিক লক্ষ্য করে নেওয়া তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নাইল্যান্ড। শেষ দিকে কাসেমিরোর আদায় করা পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও ব্রাজিলকে হার এড়াতে পারেননি।
পেনাল্টি থেকে নেওয়া নেইমারের গোলটি ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোল। ম্যাচ শেষে ‘জিই টিভি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশ্বকাপ জয়ের যে চেষ্টা তিনি করে আসছিলেন, তা ‘শেষ’ হয়ে গেছে।
নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।’ ম্যাচের পর এমন সংবাদ প্রচার করেছে ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবো। এছাড়া ফক্স স্পোর্টস, ইএসপিএন, ট্রাইবুনাসহ নির্ভরযোগ্য সব সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে নেইমারের বিদায়ের খবর।
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হওয়া নেইমার দেশের জার্সিতে ১৩০টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ৮০টি গোল এবং ৫৯টি অ্যাসিস্ট। ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ তো জেতা হলোই না, এমনকি নিজের দেশকে কোপা আমেরিকার শিরোপাও না জেতানোর আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।





