এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের মান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের (ফার্মের মুরগী) প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, মিছিল ও মানববন্ধন করছেন একদল পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্সল্যাবসহ কয়েকটি এলাকায় তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ আট দফা দাবি জানান।
মঙ্গলবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। একই সময়ে সায়েন্সল্যাব মোড়েও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এছাড়া শাহবাগ ও মিরপুরসহ রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনকারীদের মুখে ‘এক দফা এক দাবি, মিলনের পদত্যাগ’, ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। এ সময় তারা ‘আমি কে, তুমি কে—ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানও দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও কাদা পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
তারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানানো হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, যতদিন জলাবদ্ধতা, বন্যা পরিস্থিতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া থাকবে, ততদিন পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল।
এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও আপত্তি জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল, যার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় বারবার পরিবর্তন ও ‘গবেষণা’ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের সারা বছরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব রাখা যাবে না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আট দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো—পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর প্রদান, শিক্ষামন্ত্রীকে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা।
তারা আরও দাবি করেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যথাযথ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, ঢাকার বাইরে বগুড়ায়ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই হবে তাদের একমাত্র দাবি।





