উগ্রবাদ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে: সিটিটিসি

দেশে বর্তমানে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কাজনক লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তবে সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিজস্ব ডাটাবেসের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিটিটিসি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক।

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়ে এলেও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ এবং সর্বশেষ মতিঝিলে ছাতার মধ্যে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় উগ্রবাদী তৎপরতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, সিটিটিসির অধীনে সিটি কাউন্টার টেররিজমসহ একাধিক বিভাগ কাজ করছে।

অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিজস্ব ডাটাবেসের মাধ্যমে সম্ভাব্য উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উগ্রবাদ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে সে ধরনের কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে দেশের কোথাও উগ্রবাদের আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না।

মতিঝিলে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে মতিঝিল বিভাগ ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা জড়িত বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন করা হলে সিটিটিসি প্রধান জানান, গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পরে জানানো হবে। তবে আলোচিত ‘পাতা কমব্যাট’ মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।