ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বোর্ডের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লিটন দাস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদা বলের দুই সংস্করণেই সহ-অধিনায়ক করা হতে পারে তাওহিদ হৃদয়কে। অন্যদিকে টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এর মাধ্যমে তিন সংস্করণে তিন অধিনায়ক কাঠামো থেকে সরে আসছে দেশের ক্রিকেট।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব আবার শান্তকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সীমিত ওভারের দুই সংস্করণের জন্য একজন অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্তে ঝুঁকেছে বোর্ড।
যেহেতু লিটন বর্তমানে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক, তাই ওয়ানডের দায়িত্বও তার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে শান্তকে টেস্টের নেতৃত্বেই মনোযোগী রাখতে চায় বোর্ড।
এ ছাড়া তাওহিদ হৃদয়কে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন হৃদয়। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম টি-টোয়েন্টি হারের পর তার নেতৃত্বেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
২০২৫ সালের ১২ জুন নাজমুল হোসেন শান্তর জায়গায় বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হন মেহেদী হাসান মিরাজ। এ বছরের এপ্রিলে বিসিবি তার নেতৃত্বের মেয়াদ ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।
তবে মিরাজের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে দেশের বাইরে। তার নেতৃত্বে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ ১৩টি ওয়ানডে খেলে মাত্র দুটিতে জিতেছে।
মিরাজ অধিনায়ক হওয়ার পর দেশের ক্রিকেট তিন সংস্করণে তিনজন আলাদা অধিনায়কের মডেলে ফিরেছিল। তখন টেস্টে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন শান্ত, ওয়ানডেতে মিরাজ এবং টি-টোয়েন্টিতে লিটন। কিন্তু দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে বিসিবি।
এর আগে ২০২২ সালে তিন অধিনায়কের কাঠামো ছিল। সেই সময় টেস্টে নেতৃত্ব দেন সাকিব আল হাসান, ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল এবং টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।





