ঠোটকাটা স্বভাবের জন্য দুর্নাম আছে বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের। পরিণতি কী হবে, না ভেবেই, যা বিশ্বাস করেন তা বলে দেন অবলীলায়।
রাজনীতিতে নামার আগে বিভিন্ন সময়ে তার মন্তব্য ঝড় তুলেছে বলিউডে। রাজনীতিও থামাতে পারেনি তাকে। বরং তার কথার ধার যেন আরো বেড়েছে। কথার কারণে ঝক্কিও কম পোহাতে হয়নি তাকে।
মামলা-মোকদ্দমা তো আছেই, কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিমানবন্দরে এক নিরাপত্তা রক্ষীর চড় খেতে হয়েছিল চারবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই অভিনেত্রীকে। এবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করা জেন-জি’দের ধুয়ে দিয়েছেন কঙ্গনা।
দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণ প্রজন্মের টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এ আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন সৃজনশীল ও মজার স্লোগান, ফেস্টুন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।
আবার কিছু স্লোগান ও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কঙ্গনা রানাউত জেন-জি প্রজন্মের অশালীন ভাষার ব্যবহারেই ক্ষেপেছেন। তিনি এসব ভাষাকে ‘বমি আসার মত’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ কঙ্গনা বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এক জায়গায় এত নোংরামি কখনো দেখিনি। জেন জি আন্দোলনের এই রিলগুলো বমি আসার মতো।
তারা যেভাবে কথা বলে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে, সবকিছু একসাথে এত দৃষ্টিকটু এবং এত কুরুচিপূর্ণ, আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘ইশশ, কে যে এদের জন্ম দিয়েছে আর বড় করছে?’
আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে চিহ্নিত করারও তীব্র সমালোচনা করেন কঙ্গনা, :ভারত বৈচিত্র্যময় ও সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত পোশাকে আবৃত এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে মগ্ন। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলছ এবং তোমাদের চেহারা ও আচরণও তাদের মতোই। এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা নতুনত্ব নেই। তোমরা কেবল পুরো পৃথিবীকে তোমাদের নোংরামি, আবর্জনা আর কুৎসিত রূপ দেখাচ্ছ। আমি এই রিলগুলো দেখে মানসিক আঘাত পেয়েছি। আমার এখন কিছু নিরাময় এবং ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োজন।’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণীদের ‘তথাকথিত পশ্চিমা সংস্কৃতির ভারতীয় নারী’ আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা বলেন, ‘তারা এতটাই কলুষিত ও কুৎসিত যে তারা গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নয়। তারা ড্রাগস নেওয়া, মদ্যপান করা এবং নির্লজ্জের মতো মা-বাবার উপার্জনে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা নিয়ে গর্ববোধ করে।’ জেনারেশন-জি’কে ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা বলেন, ‘তাদের অনেকেরই সমাজ বা ব্যবস্থাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। তারা পড়াশোনাতেও ভালো নয়। তারা এতটাই কুৎসিত ও কলুষিত যে তারা সংসারীও হতে পারবে না।’
তবে কঙ্গনার এই মন্তব্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ উল্টো কঙ্গনার দিকেই আঙ্গুল তুলেছেন, ‘এই আন্দোলনের সময় আমাদের মেয়ে ও সন্তানদের যেভাবে হেনস্থা, মারধর এবং দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, নিজে একজন নারী হয়েও তার মনে একটুও অনুশোচনা জাগল না; এটা সত্যিই আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়।’
এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাঁর সাংসদের এই ভাষার দিকে নজর দেওয়া। পাঠান বলেন, “কঙ্গনা রানাউত যদি এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করুন তিনি নিট-এর পূর্ণরূপ জানেন কি না। তিনি জানবেন না। পুরো জেন জি প্রজন্মের কাছে তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর খেয়াল রাখা উচিত যে তাঁর সাংসদরা জেন জি-র প্রতি কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন।’





