গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তে টেপীরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় গত ৭ ও ৮ জুলাই শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি বলছে, কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস, রাসায়নিক বিষক্রিয়া কিংবা সংক্রামক রোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং আতঙ্ক, গুজব, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, পারিবারিক সমস্যা ও কর্মপরিবেশজনিত উদ্বেগের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ‘ম্যাস সাইকোলজিক্যাল ইলনেস (Mass Psychological Illness-MPI)’ বা গণ মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন গাজীপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ৯ জুলাই সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞা বলেন, তদন্তে আমরা বিষাক্ত গ্যাস, রাসায়নিক বিষক্রিয়া বা সংক্রামক রোগের কোনো প্রমাণ পাইনি। বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এটি গণ মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা (এমপিআই) বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আতঙ্ক, গুজব, মানসিক চাপ এবং কিছু ব্যক্তিগত কারণ এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রা, খিঁচুনি কিংবা সংক্রমণজনিত গুরুতর কোনো শারীরিক লক্ষণ পাওয়া যায়নি। কারখানায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এবং পরিদর্শনের সময় কোনো বিষাক্ত গ্যাসের অস্তিত্বও শনাক্ত হয়নি। তবে কর্মস্থলের শব্দের মাত্রা সহনীয় সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কারখানার এক শ্রমিকের মৃত্যু, জ্বিন-ভূতের গুজব, কাজের চাপ, অনিয়মিত সকালের নাশতা, পারিবারিক অস্থিরতা এবং কিছু শ্রমিকের ছুটির আশায় অসুস্থতার ভান এসব বিষয় সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এর ফলেই গণ মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, উপসর্গযুক্ত শ্রমিকদের দ্রুত আলাদা রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স ও সাইরেন ব্যবহার কমানো, শ্রমিকদের সচেতনতামূলক সভার আয়োজন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মস্থলের শব্দ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।





