‘এদের মারো না কেন’— ফোনে সাদ্দামকে বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে এই কল রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়।

চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই (প্রসিকিউশনের উপস্থাপনায় কল রেকর্ডের তারিখ অনুযায়ী) ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন।

আদালতে উপস্থাপিত কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, “এদের মারো না কেন?” জবাবে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।”

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক চলমান রয়েছে। মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। গত ২৬ জুলাই দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ আদালতের সামনে বর্ণনা করেন। এর আগে প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২৭ এপ্রিল এবং তখন যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত সাক্ষ্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আদালত আমলে নেয় ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে প্রসিকিউশন আদালতে দাবি করেছে।