সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই ঘটনায় আহতদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং পঙ্গুত্ব বরণকারীদের চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর মাধ্যমে অনুদানের আবেদন ফরম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক, বিআরটিএর সহকারী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের কাছে দ্রুত অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশেষ করে ওসমানীনগর ও তাজপুর এলাকায় কয়েকদিনে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সকালে মহাসড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় চালকদের অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জড়ানোর প্রবণতা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এ কারণে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সকালে ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশের মাধ্যমে স্পিড কন্ট্রোল বা গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বেপরোয়া চালকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ, মাটির কাজ এবং বর্ষার বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা সময় লাগছে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন ছয় লেনের কাজ চলার পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে বিদ্যমান সড়ক দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এতে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না। বিদ্যমান সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
এদিকে, শুক্রবার রাতে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী।
এ ছাড়া আহত ও নিহতদের দেখতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মাদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।





