নব্বই দশকের ঢালিউড রাজপুত্র সালমান শাহ্র রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আজও দাগ কেটে আছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। সালমানের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ করে আসছেন, সালমান হত্যাকাণ্ডে শাবনূরকে সহযোগিতা করেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী ডলি জহুর। কিন্তু ৩০ বছর পর এসে কেন এমন গুরুতর অভিযোগ তোলা হলো? ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? সব অমূলক ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে অবশেষে মুখ খুলেছেন প্রায় পাঁচ দশক ধরে অভিনয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ডলি জহুর। সত্য উন্মোচনে কী জানালেন তিনি?
ডলি জহুর জানান, সেদিন শাবনূরের বাসায় যাওয়াটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। শুটিংয়ের মেকআপ থেকে অ্যালার্জির চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছিলেন শাবনূর। একই ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকা ডলি জহুর শাবনূরের প্রেসক্রিপশন দেখতেই শুক্রবারের ফাঁকা রাস্তায় গ্রিন রোড থেকে রিকশা নিয়ে তাঁর বাসায় যান।
আর তখনই আসে সেই মর্মান্তিক ফোন কল। ডিরেক্টর মণ্ডলের ফোন ধরে ডলি জহুর প্রথম জানতে পারেন, সালমান অ্যাকসিডেন্ট করে হাসপাতালে ভর্তি। পরে খবর আসে, ঢালিউড রাজপুত্র সালমান শাহ্ আর নেই। খবরটি শোনামাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন শাবনূর, স্তব্ধ হয়ে যান ডলি জহুরও।
সালমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাবনূর হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে উঠলেও তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি। কেন? ডলি জহুর জানান, চিত্রনির্মাতা এহতেশামসহ অন্য পরিচালকেরা ফোন দিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন, শাবনূরকে কোনোভাবেই বাসা থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না।
সালমান-শাবনূর জুটি ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই একসাথে অভিনয় করায় তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে। মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক ও ভক্তদের বিশাল ভিড়ে আবেগপ্রবণ হয়ে কেউ যেন শাবনূরের ওপর আক্রমণ চালাতে না পারে, সেই সুরক্ষার খাতিরেই নির্মাতারা তাঁকে সেখানে যেতে বারণ করেছিলেন। ডলি জহুর জানান, শাবনূরের মা বাসায় না থাকায় একা বিধ্বস্ত শাবনূরকে রেখে বা সাথে নিয়ে তাঁর পক্ষেও সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
সালমান ও শাবনূরের মধ্যে পেশাগত কাজের বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না দাবি করে ডলি জহুর বলেন, সালমানের মৃত্যুর তিন দশক পর এসে প্রমাণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
যাঁরা কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বলেন, সালমানের মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ বাদ দিয়ে আসল অপরাধীদের দিকে নজর দিন। না হলে বিচারপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়ে যেতে পারে। আর যাই করা হোক, মিথ্যা দিয়ে সত্যকে কখনো ঢাকা যাবে না।





