ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে অমিত শাহের নতুন সিদ্ধান্ত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কোনো অংশই নিরাপদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে এসব কথা বলেন অমিত শাহ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, ‘বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০১৪ সাল থেকেই আমি ১ হাজার ১২৯ একর জমি চেয়ে আসছিলাম। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার গঠনের পরই আমরা ওই জমি পেয়েছি।’

পশ্চিমবঙ্গে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে এক হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি জানান, যেসব জেলায় বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা।

এর আগে গত মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জমি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজ্য সরকার কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশও বরাবর বলে এসেছে, রাজ্যের জমি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যে জমির ওপর চাপ বেশি থাকায় এ নিয়ে আপত্তি ছিল তাদের।

এ নিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন অতীতে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থলসীমান্ত চুক্তির সময়ও ভারত বাংলাদেশকে ১০ হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করায় পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল।

তবে বর্তমানে বিএসএফের কাছে পশ্চিমবঙ্গের এক হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হলেও এ নিয়ে আগের মতো বড় ধরনের প্রশ্ন বা প্রতিবাদ দেখা যায়নি।