পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে গালগল্প বা পরচর্চা করা সাধারণত বিনামূল্যেই হয়ে থাকে। কিন্তু কলম্বিয়ার মিরিয়াম নামের এক নারী এই পরচর্চাকেই পরিণত করেছেন আয়ের দারুণ এক উৎসে।
শুধু তাই নয়, প্রতিবেশীদের হাঁড়ির খবর বিক্রি করে তিনি রীতিমতো দুটি আস্ত বাড়ি কিনে ফেলেছেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর লেডি ড্যানিয়েলার নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মিরিয়ামের এই অদ্ভুত ব্যবসার কথা উঠে এলে তা টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
কলম্বিয়ার কিনডিও অঞ্চলের আরমেনিয়া শহরের ৬৭ বছর বয়সী এই নারী নিজেকে একজন পেশাদার ‘চিসমোসা’ বা পরচর্চাকারী হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি পছন্দ করেন। তার কাছে পাড়ার খবর জোগাড় করা নিছক কোনো শখ নয়, বরং রীতিমতো একটি গোছানো ব্যবসা। প্রতিদিন ভোর ৬টার মধ্যেই তিনি একটি নোটবুক হাতে নিয়ে বাড়ির বাইরে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন। আশপাশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার খুঁটিনাটি তিনি সেখানে লিখে রাখেন। তথ্যের গুরুত্ব ও গোপনীয়তার ওপর ভিত্তি করে তিনি এর দামও নির্ধারণ করেন। সাধারণ কোনো খবর বা পাড়ার ছোটখাটো ঝামেলার জন্য তিনি পাঁচ থেকে দশ হাজার কলম্বিয়ান পেসো চার্জ করে থাকেন।
তবে খবরের গুরুত্ব যদি বেশি হয়, যেমন কারও পরকীয়া বা পারিবারিক বড় কোনো কলহের গোপন তথ্য, তবে এর দামও অনেক বেড়ে যায়। একবার এক প্রতিবেশীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের খবর দিয়ে তিনি সাত লাখ পেসো পর্যন্ত আয় করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, মানুষ তাকে তথ্য গোপন রাখার জন্যও টাকা দেয়। মিরিয়াম অকপটে স্বীকার করেছেন, অনেক প্রতিবেশী তাদের স্বামী-স্ত্রী বা জনসমক্ষ থেকে নিজেদের গোপন বিষয়গুলো আড়াল করে রাখতে তাকে টাকা দিয়ে থাকেন।
সংগৃহীত তথ্যগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে মিরিয়াম একজন পেশাদার গোয়েন্দার মতোই কাজ করেন। তার ঘরের ভেতর একটি নোটিশ বোর্ড রয়েছে, যেখানে তিনি প্রতিবেশীদের ছবি টানিয়ে কার সঙ্গে কার কী সম্পর্ক বা ঝামেলা চলছে, তার হিসাব রাখেন। এছাড়া আরও নতুন তথ্য জোগাড় করতে তিনি বন্ধুদের নিয়ে বোর্ড গেম খেলারও আয়োজন করেন।
অনলাইনে তার এই ব্যবসায়িক বুদ্ধির প্রশংসা করে অনেকে মজা পেলেও, বিষয়টি নিয়ে নীতিগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের খবর বিক্রি করা বা তা গোপন রাখার বিনিময়ে টাকা নেওয়া ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজির পর্যায়ে পড়ে। তবে এসব সমালোচনা মোটেও গায়ে মাখেন না মিরিয়াম। তার মতে, পরচর্চাই তার জীবন এবং যতদিন সমাজে মানুষ থাকবে, ততদিন বিক্রির জন্য গল্পের কোনো অভাব হবে না।
সূত্র: গালফ টুডে





