স্যাক্সনি-আনহাল্টে বড় জয়ের পথে কট্টর ডানপন্থী এএফডি

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের পথে রয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি। রোববার ভোট গ্রহণের পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

এ ফলাফল চূড়ান্ত হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দলের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় নির্বাচনী সাফল্য। এরই মধ্যে এ ফলাফলকে ঐতিহাসিক ও নাটকীয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভোট গণনার প্রবণতাতেও এএফডির শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের তুলনায় দলটি মাত্র একটি আসন কম পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন ফল হলে ১৯৪৫ সালের পর প্রথমবারের মতো জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দল সরকার গঠনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

তবে এএফডি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এবং অন্য দলগুলোর অবস্থানের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। এএফডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও দলটিকে বাদ দিয়ে অন্যদের সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজধানী ম্যাগডেবুর্গের আল্টেস থিয়েটারে এএফডির সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলটির নেতা বিয়র্ন হ্যোকে। তিনি দিনটিকে সুন্দর বলে উল্লেখ করে ফলাফলকে একটি যুগসন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পেছনের ভিডিও পর্দায় লেখা ছিল, ‘এখান থেকেই শুরু’।

বিয়র্ন হ্যোকে বলেন, স্যাক্সনি-আনহাল্টের জনগণ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই ফলাফল জার্মানির প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এএফডির সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে। কিন্তু নির্বাচনের এমন ফল সেই অবস্থানকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন উলরিশ সিগমুন্ড। তিনি রাজ্যের সরকারপ্রধানের পদপ্রার্থী। নির্বাচনের পর তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্য দলের কিছু আইনপ্রণেতা দল পরিবর্তন করে তাঁকে সমর্থন দিতে পারেন।

রাজ্য সরকার গঠনের জন্য গোপন ভোটে অন্য দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা উলরিশ সিগমুন্ডকে সমর্থন দিলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথও খুলে যেতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসন্তোষ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিভিন্ন বিষয় এএফডির জনসমর্থন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এর সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিবাসনের ক্ষেত্রে দলটি কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

পূর্ব জার্মানির গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে এএফডির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে দলটির প্রভাব বৃদ্ধি এবং মূলধারার দলগুলোর অভিবাসন ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থানের অভাব এএফডির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্যাক্সনি-আনহাল্টের এই নির্বাচন তাই শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দলের এমন শক্তিশালী অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি করেছে।