ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। সমাজমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। প্রত্যেকেই এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক, বিদেশের মাটিতে কোনো নাগরিকের ওপর হামলা বা হেনস্তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্পীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইতালিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংসদেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদে দুই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর বিগত সরকারের সমর্থকদের হামলা কাপুরুষোচিত। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত সন্ত্রাসীদের এ হামলা আসলে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপরই হামলা। এ বিষয়ে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ইতালীয় পুলিশ ও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিনেত্রী বাঁধনকে সব ধরনের কনস্যুলার সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাঁধনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, একজন নারী ও দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর ওপর বিদেশের মাটিতে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের আচরণও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারাও ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গন থেকেও প্রতিবাদ এসেছে। নির্মাতা আশফাক নিপুণ ঘটনাটিকে ‘বর্বরোচিত’ ও ‘লজ্জাজনক’ উল্লেখ করে বাঁধনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। অন্য শিল্পীরাও সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। বাঁধনের অভিযোগ, সোমবার রাতে ভেনিসে তাঁর ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে। তারা তাঁর দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
বাঁধনের ওপর হামলাকারীর বাড়ির সবাই পালিয়েছে : ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলাকারী একজন মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। সদর উপজেলার ধুরাইল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মনিরুলের বাড়ির সবাই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনা জানাজানি হলে হামলার ভয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপন করেছেন। মনিরুল ধুরাইল ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি দেন।
সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনা জানার পর মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িতে হামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।





