কানাডার অ্যালকোহল আমদানি নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জারি করা নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী কানাডা থেকে অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক উত্তেজনা শিগগিরই হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে গদি বা ম্যাট্রেস, মোটরবোট ও গলফ কার্ট।

এ ছাড়া অপর একটি নির্বাহী আদেশে কানাডা থেকে বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহলিক পানীয় ও কিছু দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

এর জবাবে মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কানাডীয় কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, মার্কিন জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিএসএ) দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চুক্তির তালিকা থেকে ‘কানাডায় তৈরি পণ্য সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ২৭.৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার) মূল্যের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কার্যকর করে কানাডা। ওয়াশিংটনের গত ২২ আগস্টের নতুন শুল্ক ঘোষণার জবাবে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়।

বাণিজ্য উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনতে গেলে কানাডার কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। তবে তার মতে, এই পরিবর্তনের সুফল সেই ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি।

কানাডার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে কার্নি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের জন্য মূল্য দিতে হবে। তবে সেই মূল্য কোনোভাবেই স্থির হয়ে বসে থাকার ক্ষতির কাছাকাছি নয়।’

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে উত্তর আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।