সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ‘ইরানকে বিশ্বাস করা যায় না’। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসজতাই জানিয়েছেন, তেহরানের হয়ে ইরাকে অবস্থানরত ইরানি প্রক্সিরাই মূলত এই হামলা চালিয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই হামলা সম্ভবত তেহরানের নির্দেশেই হয়েছে। ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবকে সরিয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য হুথিদের রয়েছে, এটি মূলত তার প্রতিই তেহরানের সরাসরি সমর্থন।
পুসজতাই বলেন, এসব হামলার কারণে সৌদি আরব যত বেশি চাপে পড়বে, ইয়েমেন থেকে তাদের সরে যাওয়ার সম্ভাবনা ততটাই বাড়বে।
অন্যদিকে, এই হামলার মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবরোধকে আরও শক্তিশালী করল। কারণ তেহরান চায় না সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প কোনো পথে তেল রপ্তানি করুক। এর মাধ্যমে ইরান মূলত সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিল যে, তাদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না।
এদিকে, সৌদি পাইপলাইনে এই ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তারা এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। ইরাকের মাটি যেন এ ধরনের হামলার লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ইরাক সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যেই আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি পাইপলাইনে হামলার জন্য ইরান দায়ী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তারাই দায়ী।’ হুথিদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা লড়াইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েই ময়দানে নামে। তারা মার্কিন হস্তক্ষেপ চায় না এবং বেশিরভাগ জাহাজকেই নির্বিঘ্নে যেতে দিচ্ছে। কেবল একটি দেশের ওপর তাদের ক্ষোভ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই মিটিয়ে ফেলবে।
সবশেষে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ উল্লেখ করে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন, সবকিছু খুব সহজেই ঠিক হয়ে যাবে।





