সুবিধাভোগী হয়েও কেন রাজপথে বাঁধন?

একসময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নির্বাচন থেকে প্রচার-প্রচারণা সব জায়গাতেই মুখ দেখিয়েছেন তিনি।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের সময় সেই সুবিধাভোগী পরিচয় আর নিজের জীবন-পরিবারের নিরাপত্তা বাজি রেখে রাজপথে নেমে এসেছিলেন বাঁধন

ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি থেকে কীভাবে তৈরি হয়েছিল সেই পরিবর্তনের গল্প? আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে অনলাইন ট্রোলিং ও ব্যক্তিগত ব্রেকআপের ট্রমা সামলে কেমন আছেন বাঁধন?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন নিজের অতীতের সুবিধাভোগী অবস্থান। বাঁধন বলেন, আমি সত্যিই সুবিধাভোগী ছিলাম এবং তাদের প্রচার-প্রচারণা করেছি। অনেকের সাথেই আমার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু চোখের সামনে যখন অন্যায় ঘটছিল, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই।

কাছের মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কতটা কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং, তা তুলে ধরে বাঁধন জানান, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন বলেই তিনি আজ মানসিক তৃপ্তিতে আছেন এবং এতে তাঁর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।

ক্ষমতার করিডোরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বাঁধন জানান, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয় এবং পুরো সিস্টেমকে ম্যানিপুলেট করা হয়, তা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।

পুরো ব্যবস্থাটি দুর্নীতির সাগরে নিমজ্জিত ছিল বলেই তিনি দেশে আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করে বাঁধন সতর্ক করেন, দীর্ঘদিন বাকস্বাধীনতা না থাকায় এখন বাকস্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে অনেকেই যেন অপরের অধিকার খর্ব না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

আন্দোলনের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অনুসারীদের দ্বারা ক্রমাগত হেনস্তা ও ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বাঁধন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তখন এক কঠিন ব্রেকআপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর ঠিক তখনই শুরু হয় কাজ কমে যাওয়া ও অনলাইনে আক্রমণ।

তবে সাইবার জগতের বাইরে বাস্তবে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হলে তাঁদের যে অকৃত্রিম ভালোবাসা পান, সেটাই তাঁকে এই লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছে। পরিশেষে বাঁধন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন, যেখানে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।