প্রেমিকা কি রুশ গুপ্তচর? ডেটিং অ্যাপ থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক ঘিরে ন্যাটোতে তোলপাড়

একটি টিন্ডার (ডেটিং অ্যাপ) পরিচয়। এরপর প্রেম। তারপর সেই সম্পর্কই জড়িয়ে গেল ন্যাটোর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহে। একসময় যে নারী ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে প্রেমিকের সঙ্গে গিয়েছিলেন, পরে তাকেই ঘিরে উঠল রুশ গুপ্তচরের সন্দেহ। শেষ পর্যন্ত ঘাঁটি থেকে নিষিদ্ধ হলেন প্রেমিকও।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ারের নর্থউড সদর দপ্তরের। সেখানে ন্যাটোর অ্যালাইড মেরিটাইম কমান্ডে কর্মরত ছিলেন স্পেনের এক ঊর্ধ্বতন নৌ কর্মকর্তা। রুশ সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ এবং ভ্লাদিমির পুতিনের ছায়া বহরের নিষিদ্ধ তেলবাহী জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর টিন্ডারে জানিনা হোয়াইট নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই নারী ব্রিটিশ-পোলিশ দ্বৈত নাগরিক। সম্পর্কের পর তিনি প্রেমিকের লন্ডনের রুইসলিপের বাসায় চলে যান।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানিনা প্রেমিকের সঙ্গে নর্থউডের বড়দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। একদিনের দর্শনার্থী পাসে তিনি ঘাঁটিতে প্রবেশের অনুমতিও পান। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

২০২৫ সালের প্রথমার্ধে স্পেনীয় ও ন্যাটো নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সন্দেহ তৈরি হয় জানিনাকে নিয়ে। শুটিংয়ে তার আগ্রহ এবং এসেক্সের বাসিলডনের একটি রাইফেল রেঞ্জে যাওয়ার তথ্যও সামনে আসে। শুরু হয় আলাদা তদন্ত। স্থগিত করা হয় ওই স্পেনীয় কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র।

১৯ জুন নর্থউডের কমান্ডিং অফিসার তদন্তের বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার প্রবেশপাস বাতিল করেন। কিন্তু এর ১০ দিন পরও পর্তুগালের ওইরাসে ন্যাটোর মেরিটাইম হেডকোয়ার্টারে একটি প্রতিরক্ষা অনুষ্ঠানে জানিনাসহ ওই কর্মকর্তা প্রবেশের সুযোগ পান।

পরে ২৯ জুলাই মারকমে ওই কর্মকর্তার পদায়ন বাতিল করে স্পেন। ২৬ আগস্ট দুজন নর্থউডে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ এলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

জানিনা অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনো রুশ গুপ্তচর নন। তার ভাষ্য, গত মাসে অসুস্থ বাবাকে দেখতে সেন্ট পিটার্সবার্গে গেলে রাশিয়ার এফএসবির এক কর্মকর্তা তাকে নিয়ে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং প্রেমিকের কাজ সম্পর্কে জানতে চান।

ওই স্পেনীয় কমান্ডারের দাবি, অভিযোগ তার পরিবার ও ৩৫ বছরের ক্যারিয়ারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

জানিনা অভিযোগের বিরুদ্ধে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেছেন এবং ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের মামলাও করেছেন। নর্থউডের কর্মকর্তারা তাকে কেন প্রতিকূল নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন, সেটিই এখন তার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে।

সোর্স: দ্য টেলিগ্রাফ