নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইনে সন্দেহজনকভাবে সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের রেল যোগাযোগ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
দেশটির রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রোরেইল জানিয়েছে, ঘটনাগুলোকে ইচ্ছাকৃত নাশকতা বা অন্তর্ঘাতের চেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে রাজধানী আমস্টারডামসহ দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে মঙ্গলবার ব্যাপক ট্রেন বাতিল ও বিলম্বের মুখে পড়েছেন যাত্রীরা।
প্রোরেইল জানিয়েছে, রেললাইনের একাধিক স্থানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে যাওয়ার কারণে রেলপথের সিগন্যাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির কয়েকটি রেলক্রসিং বা সমতল রেলপথ পারাপারের ব্যবস্থাও ঠিকমতো কাজ করছিল না।
প্রতিষ্ঠানটির সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে ট্রেনযাত্রীদের দীর্ঘ বিলম্ব এবং একাধিক ট্রেন বাতিলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শিফল এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ইউট্রেখটের সঙ্গে সংযোগকারী রেলপথেও।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের সঙ্গে পাইপজাতীয় সামগ্রী যুক্ত করে রাখা হয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মধ্যাঞ্চলের ভিনেনডাল এলাকায় পুলিশ রেললাইন থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) লম্বা ধাতব পাইপ সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রোরেইল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রেললাইনের একাধিক স্থানে এমন কিছু সামগ্রী পাওয়া গেছে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল। এসব সামগ্রীর কারণে রেলপথের বিভিন্ন অংশের কার্যক্রমে ত্রুটি দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাগুলোতে নাশকতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ঘটনাগুলো মানুষের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি এবং নাশকতার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কেও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্তে নেদারল্যান্ডসের জাতীয় পুলিশ ইউনিট কাজ শুরু করেছে। পুলিশ ঠিক কীভাবে রেললাইনে এসব সামগ্রী রাখা হয়েছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রোরেইলের রেল নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার দেশজুড়ে অন্তত ১৫টি রেলপথে বিঘ্নের তথ্য দেখানো হয়। এসব বিঘ্নের কারণে শুধু স্থানীয় রুট নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।
বিশেষ করে আমস্টারডাম ও ইউট্রেখটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীর সঙ্গে রেল যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শিফলগামী রেলপথেও প্রভাব পড়েছে। ফলে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রোরেইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। তবে তদন্ত ও মেরামত কার্যক্রমের কারণে কখন পুরো রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নেদারল্যান্ডসের মতো ঘন রেল নেটওয়ার্কনির্ভর দেশে রেললাইনে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে এর প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হয়। একটি রুটে সামান্য ত্রুটিও অন্য রুটে ট্রেনের সময়সূচি, সংযোগ ও চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের ঘটনাতেও একাধিক এলাকায় একই ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় দেশটির রেল চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাশকতার পেছনে কারা রয়েছে, তারা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বা এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রোরেইল যাত্রীদের সম্ভাব্য বিলম্ব ও ট্রেন বাতিলের বিষয়টি মাথায় রেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি





