জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত স্বার্থ রক্ষার কথা বলে নাগরিকদের বিদেশযাত্রার ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন। নতুন নিয়মে প্রযুক্তি ও শিল্প নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পরও সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন প্রবেশ ও বহির্গমন বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার আওতায় প্রযুক্তি নিরাপত্তা, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারেন- এমন নাগরিকদের বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়মে বিদেশে অবস্থানকালে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগ থাকলে, যা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হবে, দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত আবার বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে
চীনের নতুন বিধিমালার অন্যতম লক্ষ্য কৌশলগত প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের গোপন তথ্য বিদেশে পাচার ঠেকানো। বিশেষ করে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা প্রযুক্তি, শিল্প জ্ঞান ও স্পর্শকাতর তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে থেকেই চীন সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রায় নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। নতুন বিধিমালা এসব চর্চার অনেকগুলোকে আরও স্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। চীনের কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব পদক্ষেপ জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, আইনের বিস্তৃত ব্যাখ্যার সুযোগ থাকায় কর্তৃপক্ষের হাতে নাগরিকদের বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
বিদেশযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না
নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে সাধারণ চীনা নাগরিকদের বিদেশভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পর্যটক, ব্যবসায়ী বা সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য নিয়মিত বিদেশযাত্রা চালু থাকছে। তবে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ছে। চীনের নতুন বিধিমালা মূলত বিদ্যমান কিছু নিয়ন্ত্রণকে আরও সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি দিচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তবে নতুন বিধিমালা নিয়ে তাইওয়ানসহ চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা প্রতিযোগিতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চীনে যাতায়াতকারী প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এসব বিধি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং কৌশলগত শিল্পের গোপন তথ্য সুরক্ষার লড়াই যখন আরও তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ নাগরিকদের আন্তর্জাতিক চলাচলের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।





