বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলো মনগড়া কি না, অনুসন্ধান শেষ হলে তা স্পষ্ট হবে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান এসব কথা বলেন। দুদক সচিব বলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান এখনো চলছে। অনুসন্ধান ও তদন্তে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাইদুর রহমান খান বলেন, এখানে মনমতো কাজ করার কোনো অবকাশ নেই। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব বলেন, আইনের আওতায় প্রয়োজন হলে বিদেশে এমএলআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হবে। যেসব দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সারবত্তা পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে যাবে দুদক। আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে সম্পাদিত নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর এসব নথি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
অনুসন্ধান শুরুর পরের দিনই চার ধরনের নথি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক। এরপর গত রবিবার আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কয়েকটি অভিযোগের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ ও পদায়ন-বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ। নতুন অভিযোগগুলো আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে থাকা নতুন অভিযোগগুলোর মধ্যে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্বের পাঁচ দেশে বিভিন্ন উপায়ে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আসিফ মাহমুদের দুই বোনের স্বামী ও এক ভাগনিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা কেনা, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রিন গ্রুপে’ মূলধন জোগানের কথা বলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে। দুদক বলছে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।





