পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটিতে সমঝোতার পরও দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে জিম্মি সাজেকবাসী। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীনজীবনে অলস সময় পাড় করছেন ব্যবসায়ীরা। জুমের ফসল নষ্ট হচ্ছে কারণ বসছে না হাট। হচ্ছে না বেচাবিক্রি। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে এ ভ্যালির জীবনযাপন।
সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে ওই দুটি সংগঠনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে গতকাল সকাল থেকে আবারও মাঠে নামে সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা। বাঘাইহাট মাচালঙ ১৪ কিলো, ২ নম্বর কালভার্ট, গঙ্গারাম লাদুমনি বাজার, বাঘাইহাট হাজাছড়া, ১০ নম্বরসহ পৃথক স্থানে টায়ার জ্বালায় অবরোধকারীরা। এ সময় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত ছিল। সড়ক থেকে জ্বলন্ত টায়ার সরিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
অচলাবস্থার অবসানের লক্ষ্যে অবরোধের পঞ্চম দিনের মাথায় গত সোমবার সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটি সভাপতি বাবুধন চাকমার সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। উভয় পক্ষের মধ্যে টানা আড়াই ঘণ্টা আলোচনা চলে। বৈঠকে অবরোধকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিতে আশ্বাস দিলেও জেএসএসের কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবির বিষয়ে তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে প্রশাসন। তবে আন্দোলনকারীরা পাঁচ দিনের সময় বেঁধে দেওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে প্রায় চারটিতে সমাঝোতা হয়েছে। একটি বিষয়ে একটু বাকি রয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে বাকি বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে যাবে।’ আর গণ অধিকার রক্ষা কমিটি সভাপতি বাবুধন চাকমা বলেন, আসল দাবির বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান আসেনি। সন্তু লারমার সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।





