নিজের বড়াই স্বীকার করে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ করিম বেনজেমা

ফুটবল মাঠে রেকর্ড আর সাফল্যের পাহাড় গড়ার পরও মানুষের মন জয় করে নেওয়া যে কতটা কঠিন, তা দারুণভাবে জানেন করিম বেনজেমা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই ফরাসি ফরোয়ার্ড এক দারুণ সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন, নিজের ক্যারিয়ারে মাত্র একটি ব্যালন ডি’অর জেতার পরই তার ভেতরে বড়াই বা অহংকার ভর করেছিল, যা তিনি কিছুতেই সামলাতে পারেননি। অথচ এমন একজন মানুষও এই ফুটবল দুনিয়ায় আছেন, যাঁর ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর, তবুও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত। আর তিনি আর কেউ নন, বিশ্ব ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি।

ফুটবল ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেও অহংকার থেকে দূরে থাকাটা সত্যিই দারুণ এক গুণ। বেনজেমার মতো বড় তারকা যখন নিজের মনের গর্বের কথা এত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেন এবং তার বিপরীতে লিওনেল মেসির চরম বিনয়ী ও সাদাসিধে জীবনযাপনকে তুলে ধরেন, তখন তা পুরো ক্রীড়াঙ্গনে এক চমৎকার বার্তা দেয়। রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অরের মালিক হয়েও মেসির এই নিরহংকার ও শান্ত স্বভাব প্রমাণ করে যে, প্রকৃত বড় মাপের খেলোয়াড়রা কেবল মাঠেই তারকা নন, মাঠের বাইরেও তাঁদের ব্যক্তিত্ব সবার জন্য অনুকরণীয়। সাফল্যের আলোয় চোখ ধাাঁধিয়ে না গিয়ে কীভাবে সবসময় মাটিতে পা রেখে চলতে হয়, মেসি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

খেলাধুলায় ট্রফি বা ব্যক্তিগত অর্জন হয়তো মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে, কিন্তু মানুষের আসল পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার চরিত্রে আর বিনয়ে। করিম বেনজেমার এই সৎ স্বীকারোক্তি এবং লিওনেল মেসির প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধাবোধ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসির সম্মান আরও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। অহংকারহীনতার এই সুন্দর গল্প ফুটবল আঙিনাকে কেবল প্রতিযোগিতার জায়গাই রাখেনি, বরং এটিকে মানবতাবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত করেছে।