পানি কম পান করছেন? শরীরে দেখা দিতে পারে এই ৬টি লক্ষণ

দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে অনেকেই আমরা পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যাই। শরীরে সুস্থতার জন্য পানি কতটা প্রয়োজনীয়, তা সবারই জানা। তবুও তৃষ্ণা না পাওয়া পর্যন্ত পানির গ্লাসে হাত ছোঁয়ান না অনেকেই। কিন্তু জানেন কি, পর্যাপ্ত পানির অভাব শরীরে বিভিন্ন ধরণের জটিলতা ও সতর্কসংকেত তৈরি করে?

আমাদের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। তাই পানির ঘাটতি দেখা দিলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বিঘ্নিত হয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে ৬টি প্রধান লক্ষণ প্রকাশ পায়:

মুখে দুর্গন্ধ ও শুষ্কতা পানি কম পান করলে মুখে লালা (Saliva) তৈরির পরিমাণ কমে যায়। লালায় থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। পানি কম খেলে মুখে লালার অভাব ঘটে, যার ফলে ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ে এবং মুখে তীব্র দুর্গন্ধ ও শুষ্কতা দেখা দেয়।

ঘন ঘন মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরানো পর্যাপ্ত পানি না খেলে মস্তিষ্কের কোষে পানির মাত্রা হ্রাস পায়, যার ফলে সাময়িকভাবে মস্তিষ্ক কিছুটা সংকুচিত হয় এবং খুলি থেকে আলাদা হয়ে টান তৈরি করে। এটিই মূলত মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করার প্রধান কারণ। অনেক সময় সাধারণ পানির ঘাটতিতেই তীব্র মাইগ্রেনের মতো ব্যথা হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে বৃহদন্ত্র (Colon) খাদ্যবর্জ্য থেকে অতিরিক্ত পানি শুষে নেয়। এর ফলে মল শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সৃষ্টি করে এবং হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।

প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন ও সংক্রামণ শরীরে পানির মাত্রা ঠিক থাকলে প্রস্রাবের রঙ সাধারণত খড়ের মতো হালকা বা বর্ণহীন থাকে। কিন্তু পানির অভাব দেখা দিলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামি রঙের হয়ে যায় এবং তীব্র গন্ধ বের হতে পারে। দীর্ঘ সময় পানি কম খেলে কিডনিতে পাথর হওয়া এবং প্রস্রাবের নালিতে ইনফেকশনের (UTI) ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সব সময় ক্লান্তি ও অবসাদ অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? পর্যাপ্ত পানির অভাব এর অন্যতম কারণ হতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায় এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে। ফলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পায় না, যা সার্বিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে শরীরকে দুর্বল ও ক্লান্ত করে তোলে।

ত্বকের শুষ্কতা ও নমনীয়তা হ্রাস পানি কম খেলে তার প্রথম প্রভাব পড়ে ত্বকে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও নমনীয়তা হারায়। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চোখের নিচে তিল বা কালি পড়া এবং অকালেই বলিরেখা দেখা দেওয়ার পেছনে শরীরে পানিশূন্যতা বড় ভূমিকা রাখে।

প্রতিকার ও চিকিৎসকের পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) পানি পান করা উচিত। তবে তীব্র গরম, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের সময় এর পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

শুধু পানি পান করতে ভালো না লাগলে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডাবের পানি, লেবুর শরবত, শসা, তরমুজ কিংবা ডিটক্স ওয়াটার যুক্ত করতে পারেন। চা-কফি বা সোডাজাতীয় পানীয় সাময়িক তৃষ্ণা মেটালেও তা পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে, তাই এগুলো পরিহার করে বিশুদ্ধ পানি পান করার অভ্যাস গড়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।