মুখে ব্রণ কিংবা গালের লালচে ভাব নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন। বিশেষ করে মুখে বারবার লালচে দাগ দেখা দিলে বা ছোট ছোট দানা উঠলে অনেকে একে সাধারণ ব্রণ ভেবে ভুল করেন। অথচ এসব উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা রোজেশিয়া।
রোজেশিয়া মূলত মুখের ত্বকের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা। সাধারণত গাল, নাক, কপাল ও থুতনিতে এর লক্ষণ দেখা যায়। মুখ দীর্ঘ সময় লাল হয়ে থাকা, বারবার মুখ গরম হয়ে যাওয়া, ত্বকের ওপর সূক্ষ্ম রক্তনালি দৃশ্যমান হওয়া এবং ব্রণের মতো ছোট ছোট দানা ওঠা এর পরিচিত উপসর্গ। কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে জ্বালাপোড়া, খোঁচা লাগার মতো অনুভূতি ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতাও দেখা দিতে পারে।
ব্রণ ও রোজেশিয়ার পার্থক্য কী?
মুখে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দিলেই অনেকে সেটিকে সাধারণ ব্রণ মনে করেন। তবে দুটি সমস্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তেল উৎপাদন ও প্রদাহের কারণে ব্রণ হয়। এতে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি দেখা যায়।
অন্যদিকে, রোজেশিয়ার ক্ষেত্রে মুখের লালচে ভাব, বারবার ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, সূক্ষ্ম রক্তনালি প্রকাশ পাওয়া এবং প্রদাহযুক্ত ছোট ছোট দানা বেশি দেখা যায়। সাধারণত রোজেশিয়ায় ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস থাকে না।
যেসব কারণে বাড়তে পারে রোজেশিয়া
রোজেশিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কিছু বিষয় এ সমস্যার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
অতিরিক্ত রোদে থাকা।
বেশি গরম আবহাওয়া বা উচ্চ তাপমাত্রা।
মানসিক চাপ।
ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার।
গরম পানিতে গোসল।
মদ্যপান।
তবে সবার ক্ষেত্রে একই কারণে রোজেশিয়ার উপসর্গ বাড়ে না। তাই কোন পরিস্থিতিতে মুখ বেশি লাল হচ্ছে বা ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দিচ্ছে, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
রোজেশিয়া হলে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
রোজেশিয়ায় আক্রান্ত ত্বক সাধারণত বেশ সংবেদনশীল হয়। তাই ত্বকের যত্নে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মৃদু ক্লিনজার, সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ও উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
পাশাপাশি অতিরিক্ত স্ক্রাব, কড়া রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী এবং ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে এমন পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যের ব্যবস্থাপত্র দেখে নিজের ত্বকে ওষুধ প্রয়োগ করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
রোজেশিয়ার চিকিৎসা কী?
রোজেশিয়া পুরোপুরি নিরাময়ের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা এখনো নেই। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক ত্বকে ব্যবহারের ওষুধ, খাওয়ার ওষুধ কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে লেজার থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।
চোখেও দেখা দিতে পারে সমস্যা
রোজেশিয়ার প্রভাব শুধু মুখের ত্বকে সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চোখেও এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চোখ শুষ্ক হওয়া, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া, চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি কিংবা চোখের পাতার চারপাশে লালচে ভাব তৈরি হতে পারে।
চোখে ব্যথা, আলো সহ্য করতে সমস্যা কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ত্বকের লালচে ভাব কিংবা ব্রণ মানুষের সৌন্দর্য বা ব্যক্তিত্বের মাপকাঠি নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে সেটিকে অবহেলা না করে এর কারণ জানা প্রয়োজন। সঠিক রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে রোজেশিয়ার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ ত্বক বজায় রাখা সম্ভব।





