এইচএসসিতে এবার প্রায় অর্ধেক ফেল, সংখ্যায় ৬ লাখেরও বেশি

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। সে হিসাবে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকই পাস করতে পারেননি। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

শনিবার বেলা ১১টা ৬ মিনিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।

কোন বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কত?

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ বোর্ডে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন।

অন্যদিকে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বোর্ডে সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৫০ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ বোর্ডে সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৩৭ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ড থেকে সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থী।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাইরে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন পরীক্ষার্থী।

ফল জানার সুযোগ অনলাইন ও এসএমএসে

ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহের পাশাপাশি নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন।