কাতার বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়ার হতাশা ভুলে দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স এবার উত্তর আমেরিকার মহাযজ্ঞে নামছে সম্পূর্ণ নতুন ও বিধ্বংসী এক রূপ নিয়ে। বিশ্বমঞ্চে গত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ফ্রান্স এবারও ট্রফি পুনরুদ্ধারের অন্যতম প্রধান দাবিদার।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান শক্তির জায়গা হতে যাচ্ছে তাদের অবিশ্বাস্য ও চোখ ধাঁধানো আক্রমণভাগ। দলটির ফরোয়ার্ড লাইনের গভীরতা কতটা ভয়ঙ্কর, তা কেবল খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। এবারের স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ফ্রান্সের ৯ জন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের সম্মিলিত বাজারমূল্য আনুমানিক ৮০০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি।
আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং দিয়াজরা দুয়ে কেবল এই চার তারকারই আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো। এই সংখ্যাটা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পুরো বিশ্বকাপ আক্রমণভাগের সম্মিলিত মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি। এমবাপ্পের গতি আর অলিসে-দেম্বেলের সৃজনশীলতায় গড়া এই আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে একাই গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
তবে মুদ্রার যেমন ওপিঠ থাকে, তেমনি এই শক্তিশালী এবং তারকাবহুল ফ্রান্স দলেরও কিছু অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বা চিন্তার কারণ রয়েছে, যা দেশমকে বেশ ভাবিয়ে তুলবে। প্রথমত, আক্রমণভাগে এত কোটি কোটি ইউরোর তারকা থাকা সত্ত্বেও, মাঠের খেলায় ফ্রান্স মাঝে মাঝেই একজন খাঁটি ‘ফোকাল পয়েন্ট’ বা প্রথাগত নাম্বার নাইন এর অভাব বোধ করে।
দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম তাদের লেফট-ব্যাক পজিশন। শুরুর একাদশে লেফট-ব্যাকে কে খেলবেন তা নিয়ে এখনো বড় রকমের প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেছে। স্কোয়াডে থাকা লুকাস দিনিয়ে এবং থিও হার্নান্দেজ দুজনেই রক্ষণ সামলানোর চেয়ে আক্রমণে ওপরে উঠতেই বেশি পছন্দ করেন, যা কাউন্টার অ্যাটাকের সময় ফরাসি ডিফেন্সকে অরক্ষিত করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, রক্ষণভাগের দিক থেকে যিনি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ও ভরসাযোগ্য ছিলেন, সেই লুকাস হার্নান্দেজ ক্যারিয়ারজুড়েই ভুগছেন চোটের সমস্যায়। বড় কোনো ম্যাচে রক্ষণের এই ফাঁকফোকর ফ্রান্সের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।





