বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল কতটা প্রস্তুত?

মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয়ের পরও ব্রাজিল জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্লিভল্যান্ডের তীব্র রোদ ও ছাউনিবিহীন বেঞ্চের অস্বস্তির পাশাপাশি মাঠের ভেতরের নানা ঘাটতিও তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বিশ্বকাপের আগে এটি ছিল আনচেলত্তির ব্রাজিল দলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ এবং জাতীয় দলের দায়িত্বে তার ১২তম ম্যাচ। জয় এলেও দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগে দুর্বলতা ও ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে বারবার পরাস্ত হওয়া ব্রাজিলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচে টানা পঞ্চমবারের মতো গোল হজম করেছে ব্রাজিল। রক্ষণভাগে মারকিনিওসের একটি ভুল থেকে গোল এলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত নতুন সমন্বয়ের ঘাটতির ফল। আক্রমণেও ছিল ধীরগতি ও বলের প্রবাহে অসংগতি।

মিসরের আক্রমণাত্মক খেলায় ব্রাজিলের ডিফেন্স বারবার চাপে পড়ে, যদিও দলটি নিজেদের প্রেসিং কৌশল দিয়ে কিছু সময় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রথমার্ধে গতি না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়।

আনচেলত্তি এখনো তার পছন্দের কৌশল ও আদর্শ একাদশ পুরোপুরি স্থির করতে পারেননি। ৪-৪-২ ফরমেশন ঘিরে তিনি দল সাজানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আনার প্রবণতাও রয়েছে। তবে স্ট্রাইকার পজিশনে এখনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

মিডফিল্ডে কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে দেখা হলেও আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। রাফিনিয়া ও এনদ্রিকের মতো তরুণদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলকে।

এদিকে ডিফেন্ডার ওয়েসলির চোট নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে রক্ষণ ও ফুলব্যাক পজিশনে বিকল্প পরিকল্পনা খুঁজতে হচ্ছে কোচকে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের বড় সমস্যা এখন দলগত সমন্বয় ও রক্ষণভাগের স্থিতিশীলতা। শক্তিশালী স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও দলটি এখনো পুরোপুরি একক ইউনিট হিসেবে গড়ে ওঠেনি, যা বিশ্বকাপের আগে বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।