লেকে গোসল করতে নেমে মারা যাওয়া দুই ভাইবোনের দাফন সম্পন্ন

লেকে গোসলে নেমে মারা যাওয়া মো. গালিব (১৮) ও সুরাইয়া আক্তারের (১২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় দুই ভাইবোনের জানাজা শেষে রঘুনাথপুর কবরস্থানে লাশ দুটির দাফন সম্পন্ন হয়।

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আকরাম হোসেন বিশ্বাসের (৫০) ছেলে মো. গালিব ও মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। এছাড়া রাশেদুজ্জামানকে দাফন করা হয়েছে কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামের কবরস্থানে। ঘটনার পর শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার ডিএনডি লেকের দক্ষিণ কদমতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার মনাগ গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে মো. রাশেদুজ্জামান (২২), নড়াইল জেলার কালিয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রামের আকরামের ছেলে মো. গালিব (১৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (১২)। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট জালালের বাড়ির ভাড়াটিয়া। গালিব ও সুরাইয়া রাশেদুজ্জামানের শ্যালক ও শ্যালিকা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বছর দুই আগে নড়াইল থেকে নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আকরাম হোসেন বিশ্বাস। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থেকে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন আকরাম হোসেন।

শনিবার বিকেলে এখানে ডিএনডি লেকে গোসল করতে পানিতে ডুবে মারা যায় ছেলে গালিব, মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ও রাশেদুজ্জামান। রবিবার ভোর রাতে পুরুলিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ভাইবোনের লাশ এবং কাশিয়ানির মনাগ গ্রামে রাশেদুজ্জামানের লাশ নিয়ে পৌঁছান স্বজনরা।

আকরাম হোসেন জানান, তার একমাত্র ছেলে গালিব ও মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ব্যবসার কাজে মাঝেমধ্যে তাকে সহযোগিতা করতো। বছর খানেক আগে বড় মেয়ে তিথি বেগমকে বিয়ে দেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামের দেলোয়ার মিয়ার ছেলে রাশেদুজ্জামানের সাথে। পাঁচ বছর বয়সী আর একটি মেয়ে রয়েছে তাদের পরিবারে।

ঈদুল আজহায় পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি রঘুনাথপুরে বেড়াতে এসেছিলেন। কয়েকদিন হলো বাড়ি থেকে আবার কর্মস্থল সিদ্ধিরগঞ্জে ফেরেন। জামাই রাশেদুজ্জামানও তাদের নারায়ণগঞ্জের বাসায় যান। এখানে থেকে কাজের সন্ধান করছিলেন তিনি। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে জামাই রাশেদুজ্জামান, ছেলে গালিব এবং মেয়ে সুরাইয়া সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় শরীফ গাজী ও প্রতিবেশিরা জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে নারয়ণগঞ্জ গিয়েছিলেন আকরাম। একই পরিবারের দুই ভাইবোন ও জামাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামের মানুষ শোকাহত।

পুরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি জানান, রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেনের দুই সন্তান পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনায় মর্মাহত হয়েছি। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনা।