এক দিনেই দুই তারকার ভিন্ন গল্প

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যেন দুই মহাতারকা দুই ভিন্ন গ্রহের ফুটবল খেললেন। একজন ৩৮ বছর বয়সে এসেও প্রতিপক্ষকে নাচিয়ে রেকর্ডবুক ওলটপালট করে দিলেন। আর অন্যজন গোলপোস্টের সামনে সহজ সুযোগ করেন হাতছাড়া। কানসাস থেকে নিউ জার্সি- একই দিনে বিশ্ব ফুটবল দেখলো লিওনেল মেসির রাজকীয় গোল উৎসব এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চরম হতাশার এক রাত।

উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকা ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেই ম্যাচে পুরো মাঠজুড়ে যেন একা রাজত্ব করেন লিওনেল মেসি। ৩৯দম জন্মদিনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচের ঐতিহাসিক রাতটিকে এলএমটেন রাঙান ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক দিয়ে।

৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে এসে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। শুধু তাই নয়, আলজেরিয়ার জাল ৩ বার কাঁপিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেলেন মেসি, যা জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান।

বক্সের বাইরে থেকে জাদুকরী গোল করে ব্রাজিলের রিভেলিনোর রেকর্ডও ছুঁয়েছেন। এক কথায়, মেসি যা দেখান, তা ফুটবল রোমান্টিকদের চোখে লেগে থাকবে বহু দিন।

মেসি যখন হ্যাটট্রিকের আনন্দে ভাসছেন, ঠিক তখনই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য মাঠের সময়টা কাটল একবারে নরকযন্ত্রণায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালকে জেতাতে একবারে ব্যর্থ হলেন সিআরসেভেন। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদো যেভাবে কয়েকটি নিশ্চিত ও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলেন, তা গ্যালারির পর্তুগিজ সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।

এই ম্যাচের পর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে টানা ৯টি ম্যাচে কোনো গোল পাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গোলপোস্টের সামনে তার এমন মলিন ও ছন্নছাড়া খেলা দেখে খোদ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও মন্তব্য করেছেন, ‘এবার সব বিতর্ক থামিয়ে মেনে নেওয়ার সময় এসেছে যে মেসিই সর্বকালের সেরা।’ আগামী সোমবার আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার, আর পর্তুগাল লড়বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।