‘প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি ফ্যামিলি কার্ড যাবে, ফ্যামিলি কার্ডের কাছে কাউকে যেতে হবে না’

ফ্যামিলি কার্ডের বৈশিষ্ট্য প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি ফ্যামিলি কার্ড যাবে। ফ্যামিলি কার্ডের কাছে কাউকে যেতে হবে না। ফ্যামিলি কার্ড বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। সেই তথ্য কম্পিউটারে আপলোড করবে। সেখান থেকে অটোমেটিক জেনারেট হবে কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত আর কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া উপযুক্ত না। ফ্যামিলি কার্ড পাবে সবাই। উপকার ভোগী নির্বাচন হবে কম্পিউটারে মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

০৪ জুলাই শনিবার একদিনের সফরে এসে দুপুরে রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা শেসে সংবাদিকদেও সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দূর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার একেবারে জিরো টলারেন্স ঘোষনা দিয়েছে। আমাদের জবাবদিহিতা ঐ জনগন ও সংসদের কাছে। দূর্নীতি করলে কোন ক্ষমা করা হবে না এটা এক নম্বর। বিগত সময়ে যেটা হয়েছে সেটার ব্যাপারে অন্তবর্তীন সরকার কিছু করেছে। দূর্নীতি ধরার জন্য দুদকসহ অন্যান্ন যে সংস্থাগুলো আছে তারা কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে ১৭০০ স্কুল পরিক্ষা-নিরিক্ষা হয়েছে। সেগুলো নিতিমালার কাছাকাছি আছে। প্রত্যেক জেলায় স্টান্ডার প্রতিবন্দি স্কুল যাতে থাকে। আর প্রত্যেক উপজেলা মিনিমাম ১টা করে যাতে হয় সে ব্যপারে আমরা কাজ করছি। সবথেকে বড় সমস্য শিক্ষক। প্রতিবন্ধীদের টেনিং দেয়ার জন্য বাংলাদেশে একটা মাত্র কলেজ আছে যেখানে শুধু প্রতিবন্ধী শিক্ষক তৈরী করা হয়।

পরিদর্শনে গিয়ে রংপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি রুমে মন্ত্রী গিয়ে দেখেন রুমের ভিতরের চেয়ারগুলোতে ময়লায় ভরা। সেখানে থাকা এক কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, চেয়ার টেবিল গুলো ময়লায় ভরা। আপনারা তো এই রুমের ভিতরে ১৫ দিনের মধ্যে একদিনও কেউ বসেন নাই। চেয়ারে হাত দেন দেখেন কি পরিমান ময়লা আছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় নির্বাচন করতে হয় নাই। রাতে ভোট করতে হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে ভোটার না গেলেও ভোট হয়ে গেছে। প্রার্থী নাই ডামি নির্বাচন হয়েছে। দায়বদ্ধতা ছিলো কতিপয় কর্তকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগনের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিলো না। যার জন্য জনপ্রতিনিধিরাও জানতে পারতো না কি ধরনের বরাদ্দ আসতো।

তিনি বলেন, ১ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এই বছর আমাদের সরকার ১লা জুলাই থেকে বাজেটে রেখেছে। যেটা হয়তো বিগত সরকার ১ লাখ কোটি ছিল বা ১লাখ ১০ হাজার কোটি ছিলো। যাদের সুবিধা পাওয়ার উপযুক্ত তারা সুবিধা পাবেন এটা তাদের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গিকার ছিলো। বর্তমান সরকার এই অঙ্গিকার বাস্তাবায়ন কাজ করছে।

এর আগে সরকারী শিশু পরিবার বালিকা, অাঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এসময় নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারী কর্তকর্তা উপস্থিত ছিলেন।