দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের গতি গত জুনে বেশ মন্থর ছিল বলে জানিয়েছে ‘পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ (পিএমআই)। তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে পারচেজিংয়ের সামগ্রিক সূচক ৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৫২ দশমিক ৯-এ দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের উৎপাদন ও নির্মাণ খাতও আবার সংকোচনের ধারায় ফিরেছে।
গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে এই ‘পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ বা পিএমআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন বলা হয়, ধীরগতির এ সম্প্রসারণ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মিশ্র চিত্রকে প্রতিফলিত করে। কৃষি ও পরিষেবা খাত সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখলেও প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। কৃষি খাত টানা দশম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং ইনপুট খরচ সূচকে সম্প্রসারণ দেখা যায়। তবে অর্ডার ব্যাকলগ সূচক টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সংকোচনে অবস্থান করেছে। একইভাবে উৎপাদন ও নির্মাণ খাত পুনরায় সংকোচনে ফিরেছে। তবে উৎপাদন খাত এরআগে টানা দুই মাসের সম্প্রসারণের পর পুনরায় সংকোচনে ফিরে এসেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি, কর্মসংস্থান, সরবরাহকারীর ডেলিভারি এবং অর্ডার ব্যাকলগ সূচকে সংকোচনের ফলে এ সংকোচন হয়। এ ছাড়া নির্মাণ খাতও আগের মাসে সম্প্রসারণের পর পুনরায় সংকোচনে ফিরে এসেছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সূচক পুনরায় সংকোচন রেকর্ড করেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিষেবা খাত টানা ২১তম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং ইনপুট খরচ সূচকে ধীরগতির সম্প্রসারণ দেখা যায়। একই সময়ে অর্ডার ব্যাকলগ সূচকে সংকোচনের গতি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী, কৃষি, নির্মাণ এবং পরিষেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উৎপাদন খাতও পুনরায় সম্প্রসারণে ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা কর হেেয়ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, দীর্ঘ ঈদুল আজহার ছুটি, মৌসুমি বর্ষার সূচনা এবং ঈদ-পূর্ব চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব জুন মাসের ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। জুন মাসের পিএমআই সূচক নির্দেশ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সম্প্রসারণ ধারায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন খাতের মধ্যে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য দেখা যায়।





