বিশ্বকাপই ঠিক করবে ব্যালন ডি’অরের মালিক কে হবে : ওয়েন

ইংল্যান্ড যদি ২০২৬ বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠবেন জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইন। তবে দুজনের মধ্যে কে এগিয়ে থাকবেন, সেটি নির্ভর করবে সেমিফাইনাল ও সম্ভাব্য ফাইনালে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর। এমনটাই মনে করেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার ও ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে ওয়েন বলেন, বেলিংহ্যাম এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বয়স কম হলেও বড় ম্যাচে তিনি নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। বড় আসরে ও যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের অন্যতম প্রধান ভরসা সে।’

বেলিংহ্যামকে নিয়ে একসময় সমালোচনা হয়েছিল বলেও মনে করিয়ে দেন ওয়েন। তার মতে, বিশ্বমানের খেলোয়াড় খুব বেশি নেই ইংল্যান্ডে, তাই এমন একজনকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবাটাই ছিল বিস্ময়কর।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জিততে হলে আমাদের বেলিংহ্যামের মতো তিন-চারজন ফুটবলার প্রয়োজন। ফ্রান্সের মতো দলে এমন চার-পাঁচজন খেলোয়াড় আছে। ইংল্যান্ডে সেই সংখ্যা কম।’

ওয়েনের মতে, বেলিংহ্যাম এমন একজন, যাকে ঘিরে ভবিষ্যতের ইংল্যান্ড দল গড়ে তোলা সম্ভব।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন বেলিংহ্যাম। ছয় ম্যাচে করেছেন ছয় গোল। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি। একই সংখ্যক গোল করেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। ব্যালন ডি’অরের লড়াই প্রসঙ্গে ওয়েন বলেন, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতলে বেলিংহ্যাম ও কেইন দুজনই পুরস্কারের জোরালো দাবিদার হবেন।

তার মতে, ‘আমরা যদি বিশ্বকাপ জিতি, তাহলে বেলিংহ্যামের দারুণ সুযোগ থাকবে। তবে ক্লাব ফুটবলে কেইনের অসাধারণ মৌসুম তাকে কিছুটা এগিয়ে রাখতে পারে।’

তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। ওয়েন বলেন, ‘ধরুন, বিশ্বকাপ ফাইনালে বেলিংহ্যাম জয়সূচক গোল করল। তাহলে পাল্লা তার দিকেই ঝুঁকে যাবে। প্রথম শর্তই হলো ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিততে হবে। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে কে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।’

তবে এই দৌড়ে শুধু ইংল্যান্ডের দুই তারকাই নন, স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসের মতো ফুটবলাররাও আলোচনায় আছেন। ফলে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচই নির্ধারণ করে দিতে পারে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের মর্যাদা শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে।