ফরাসি শিবিরে ‘সেভেন-আপ’ শঙ্কা, চোখ রাঙাচ্ছে বেলো হরাইজন্তের সেই ট্র্যাজেডি

ফুটবল বিশ্ব কি আরও একটি বেলো হরাইজন্তের সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি দেখতে যাচ্ছে? ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের সেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য ভূত যেন এবার এসে ভর করল ফরাসি শিবিরের ওপর।

চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার আগেই ফ্রান্সের জালে একে একে চারবার বল জড়িয়ে এক কল্পনাতীত তাণ্ডব চালাল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের এই গোল উৎসবের বিপরীতে মাঠে ফরাসি ডিফেন্ডারদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ফরাসি সমর্থক তখন গালে হাত দিয়ে অশ্রুসজল চোখে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে এভাবে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে এক মহানাটকীয় রূপকথার জন্ম দিল ইংলিশরা।

খেলার শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগের হতশ্রী চেহারার সুযোগ নিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে থ্রি লায়নরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভেঙে প্রথম গোলটি করেন ডেক্লান রাইস। শুরুর ধাক্কা সামলে ফ্রান্স যখন ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছিল, ঠিক তখনই ১৮ মিনিটের মাথায় এজরি কোনসা গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার একক জাদু; ৩৭ মিনিটে নিজের প্রথম এবং দলের তৃতীয় গোলটি করার পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিট) ফরাসিদের জালে আবারও বল জড়িয়ে হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় পৌঁছান এই তারকা উইঙ্গার।

প্রথমার্ধের এই ৪টি গোল যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০১৪ সালের সেই সেমিফাইনালে টনি ক্রুস আর মিরোস্লাভ ক্লোসাদের সামনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভেঙে পড়ার সেই দুঃসহ দৃশ্য।

খেলার প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে তুমুল ঝড়। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই একে ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন-আপ’ ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রথমার্ধে জার্মানি ৫ গোল দিয়েছিল সেলেসাওদের।

ফ্রান্সের কোচ ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে যখন শিষ্যদের এই বিপর্যয় দেখছিলেন, তখন অন্যদিকে ইংলিশ শিবিরে বইছিল বাঁধভাঙা উল্লাস। রাইস, কোনসা ও সাকার এই ৪-০ গোলের মহাপ্রলয়ের পর দ্বিতীয়োর্ধে ফ্রান্স নিজেদের সম্মান বাঁচাতে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারে, কিংবা ইংল্যান্ড গোলের সংখ্যাকে কোথায় নিয়ে ঠেকায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।