রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগের প্রধান ধমনি হলো ঢাকা-টঙ্গী রেলপথ। প্রতিদিন শতাধিক ট্রেন চলাচল করলেও মাত্র দুটি লাইনের কারণে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় ও যাত্রী ভোগান্তি হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে ২০১১ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১২ সালে ভারতীয় ঋণে কাজ শুরু হয়। দুঃখের বিষয়, তিন বছরের প্রকল্প ১৫ বছরেও শেষ হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসায় প্রকল্পটি নিয়ে আবার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই সময়ে প্রকল্পটির ভৌত কাজ মাত্র ৫৩ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ।
রেলপথ সংকট নিরসনে ২০১১ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। একই সঙ্গে টঙ্গী-জয়দেবপুর একক রেলপথে দ্বিতীয় লাইন নির্মাণের প্রকল্পও নেওয়া হয়। ২০১২ সালে ৮৪৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পের কাজ। পরে ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। এই খরচের মধ্যে প্রকল্প ঋণ ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এটি চার দফায় বেড়ে এখন পৌঁছেছে ৩ হাজার ৩৪২ কোটিতে। সেই হিসেবে ব্যয় বাড়ে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমন্বয়হীনতা এবং নানা ধরনের বাস্তবসম্মত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি গতি হারিয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ। রেললাইনের ওপর এক্সপ্রেসওয়ের পিয়ার ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্মাণকাজ চলায় বিমানবন্দর-তেজগাঁও ও তেজগাঁও-মগবাজার অংশে বারবার রেলপথ নির্মাণ ব্যাহত হয়েছে। এমনকি অনেক স্থানে নির্মিত চতুর্থ লাইন তুলেও ফেলতে হয়। রেললাইনের নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ এবং অপটিক্যাল ফাইবার লাইন যথাসময়ে অপসারণ ও পুনঃ স্থাপন না করায় বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। তুরাগ নদের ওপর ৪২ নম্বর রেলসেতুর পুনর্নকশা এবং সেতুর হাইট ক্লিয়ারেন্স বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ছাড়া মূল পরিকল্পনার বাইরে অতিরিক্ত লুপলাইন নির্মাণ এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত নতুনভাবে ডুয়েলগেজ লাইন সংযোজন করা হয়েছে। এতে কাজের পরিধি ও ব্যাপ্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। করোনা মহামারির ধাক্কা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণসামগ্রী, স্লিপার ও পাথর সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা প্রকল্প বাস্তবায়নকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। মূলত ভারতীয় ঋণের টাকা ছাড় না হওয়া, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছ থেকে সময়মতো জমি বুঝে না পাওয়াই প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, নানান জটিলতা ও সাইড বুঝে পেতে সমস্যা হলেও বর্তমানে বাধাগুলো অপসারণের কাজ চলছে। বাধাহীন এলাকায় দিনরাত পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে। জানা গেছে, এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে দৈনিক ট্রেনের চলাচল ২৫০টিতে উন্নীত করা সম্ভব হবে, যা উত্তরাঞ্চলগামী লাখো যাত্রীর দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয় ও যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে।





