বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর আজ ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু ঘিরে যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনো সুরাহা হয়নি। সালমান শাহ কি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে-এ প্রশ্ন ৩০ বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। একাধিক তদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তা মেনে নেয়নি সালমান শাহর পরিবার। তিন দশক ধরে তদন্ত, পাল্টা তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা হলে হঠাৎ করেই ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয়। গ্রেপ্তার হন সালমান শাহর বন্ধু ও চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডন। পরে আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৭ আগস্ট পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। অদৃশ্য কারণে তাঁকে এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেনি পুলিশ। বর্তমানে ডন রয়েছেন কারাগারে। মামলার আসামি সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ অন্য আসামিদের ব্যাপারে পুলিশের কোনো পদক্ষেপ নেই। এ অবস্থায় নতুন এ তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সামিরার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার কাছে সালমান শাহর বাসার কাজের মেয়ে মনোয়ারা এবং ডলির বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলেও জানান। জানা গেছে, মামলার প্রেক্ষাপট ও নতুন মোড় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঝুলে থাকা সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে সম্প্রতি নতুন মোড় নেয় আইনি প্রক্রিয়ায়। গত বছর ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা ‘অপমৃত্যু’ মামলাটি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। শুরুতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। সালমান শাহর মায়ের দাবি, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর সময় সালমান শাহর শরীরে পাওয়া কিছু আলামত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, তাঁর বুকের বাঁ পাশে ছিল কালো দাগ, শরীর থেকে মল ও বীর্য নির্গত হয়েছিল। তাঁর ঘরে একটি সিরিঞ্জ এবং স্ত্রীর ব্যাগে ক্লোরোফর্ম জাতীয় ওষুধ পাওয়া গিয়েছিল। তৎকালীন তদন্তে এসব বিষয় যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া পোস্টমর্টেম রিপোর্টে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সে সময়ের সিআইডি এবং পরে পিবিআই তদন্তেও নানা গরমিল ছিল বলে আদালতে দাবি করেছেন মামলার আবেদনকারী।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, তদন্তে এখনো কোনো অগ্রগতি দেখছি না। অন্যতম আসামি সামিরাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো পদক্ষেপ নেই। রহস্যজনক কারণে তদন্ত কর্মকর্তাকেও পরিবর্তন করা হয়েছে। ডনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এবারের তদন্তেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।
ডনের আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম বলেন, আসামি অত্র মামলার সম্পর্কে কিছুই না। ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল ও সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে- ভুক্তভোগী আত্মহত্যা করেছেন।





