চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত সিলেট। ছোট-বড় মিলিয়ে সিলেট বিভাগে রয়েছে ১৬৮টি চা বাগান। চায়ের এই দেশে এবার থাবা বসিয়েছে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আসা নিম্নমানের চা। যা স্থানীয়ভাবে ‘বুঙ্গার চা’ হিসেবে পরিচিত। ভারত থেকে আসা এসব নিম্নমানের চায়ে এখন সয়লাব সিলেট। তুলনামূলক কম দামে পেয়ে এসব চা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুঙ্গার চায়ের ‘আগ্রাসনে’ নষ্ট হতে যাচ্ছে সিলেটের উন্নতমানের চায়ের বাজার। গেল দুই সপ্তাহে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ভারতীয় চায়ের তিনটি চালান। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ চা পাতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবৈধপথে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চা পাতা আসে। অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট সীমান্ত পেরিয়ে চা নিয়ে আসে। ভারত থেকে আনার পর প্রথমে সেগুলো স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করে পরে সুযোগ বুঝে নিয়ে আসা হয় সিলেট শহরে। সেখান থেকে সরবরাহ করা হয় খুচরা দোকানগুলোতে। সূত্র জানায়, সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের চা বেশি আসে। স্বল্প পরিমাণে মেঘালয়, অরুণাচল, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডের চা-ও আসে। তবে এই পরিমাণ খুব বেশি নয়। সিলেট লাগোয়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে খোলা চা পাতা পাইকারি বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে। নিম্নমানের এসব চা পাতা চোরাকারবারিরা সিলেট সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসে। বাংলাদেশে প্রতি কেজি চায়ের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। দামের বড় তারতম্যের কারণে খুচরা বাজারে ভারতীয় চোরাই চায়ের চাহিদা রয়েছে। খোলা এই চায়ের প্রধান ক্রেতা হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে কম দামে এসব চা যারাই কিনছেন, তারাই প্রতারিত হচ্ছেন।
অপর একটি সূত্র জানায়, ভারত থেকে আনা এসব নিম্নমানের চোরাই চা সিলেটে এনে স্থানীয় ভালোমানের চায়ের সঙ্গে মিক্সড করে বাজারজাত করে একটি চক্র। ওই চক্রটি ভারতীয় চাকে সিলেটের স্থানীয় বাগানের চা দাবি করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে থাকে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চা দেখে ভারতীয় না বাংলাদেশি সেটি বোঝা কঠিন। চা তৈরির পর গুণগত মান বোঝা যায়। তবে দিন দিন যেভাবে ভারতীয় নিম্নমানের চোরাই চা বাজারে ঢুকছে তাতে স্থানীয় ভালোমানের চায়ের ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়ছে।
সিলেট নগরীর আম্বরখানার ব্যবসায়ী গুলজার আলম জানান, প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তি ভারতীয় চোরাই চা বিক্রির জন্য নমুনা নিয়ে আসেন। দামে কম হলেও ক্রেতাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে তিনি সেটি তার দোকানে তোলেন না। তবে চোরাই চায়ে এখন বাজার সয়লাব। এসএমপির মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, চা চোরাচালানের মূল হোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত বাহকরা ধরা পড়লেও মূল সিন্ডিকেট শনাক্ত সম্ভব হয়নি।





