ভারতে শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়েছে। সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও জবাবদিহীনতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ক্ষোভ ও ছোট ছোট প্রতিবাদ অক্টোবর মাসে এক হয়ে বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক বিদ্যা কৃষ্ণের এক কলাম বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে আন্দোলনকারীরা। মোদির দল বিজেপিকে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ এনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও শিক্ষার্থীরা মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে অহিংস অসহযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে। ইভিএমের বদলে সনাতন ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিরোধী দলগুলোও দেশজুড়ে পাঁচটি বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
একই সময়ে দিল্লিতে কিশোরী গণধর্ষণের বিচার দাবিতে তরুণ ও কুইয়ার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, মুম্বাইয়ের আইআইটি বোম্বেতে জাতিভিত্তিক হয়রানির জেরে সাহিল ওয়াকোডের আত্মহত্যার পর শিক্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশন, এবং পুনেতে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীদের রাজপথ অবরোধ আন্দোলনকে বহু পাক্ষিক ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এসব বিচ্ছিন্ন আন্দোলন মূলত মোদি সরকারকে এক ধরনের ‘পিনসার মুভমেন্ট’ বা বহুমুখী সাঁড়াশি চাপের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে গণমাধ্যম, বিচারবিভাগ ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে তিন মেয়াদে নরেন্দ্র মোদি একক আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন, সেই যুগ এখন শেষের পথে। ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে গান্ধী জয়ন্তীর দিনেও দিল্লি ও মুম্বাইয়ে ব্যারিকেড এবং দাঙ্গা দমনে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হলেও বিক্ষোভকারীরা বারবার রাজপথে ফিরে আসছে। ইতিহাস হয়তো স্মরণ রাখবে যে, মোদির একছত্র শাসনে প্রথম ফাটল কোনো নির্বাচনী পরাজয়ে আসেনি, বরং তা এসেছে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থানের মধ্য দিয়ে।





