ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীরা। এ সময় দলটির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ কয়েকজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। সিপিজের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দলের নেতাকর্মীরা হাতে পতাকা নিয়ে লোহার গেট ও পুলিশের ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন সিপিজের নেতাকর্মীরা। ঘটনার পর এক পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘আপনারা প্রতিরোধকে বাতিল করতে পারবেন না।’
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিজের ভয়েরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তার ধারণা, যন্তর মন্তর আর বিক্ষোভস্থল না থাকলে প্রতিবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হবে না। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন ‘যন্তর মন্তর’ গড়ে উঠবে।
নিরাপত্তার কারণে নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর এত দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানটিকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে।
এর পরিবর্তে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ও সিপিজের বিক্ষোভের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর থেকে যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। ওই দিন সেখানে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিপিজে। দলটির শীর্ষ নেতা দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের পুলিশ ছেড়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার ও রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও পুলিশি অভিযানের মধ্যে হাজারো মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি বাতিলের পরও সেখানে ঢুকে সিপিজের এই কর্মসূচি পালন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি





