উচ্চ বেকারত্ব, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অচলবস্থার প্রতিবাদে কসোভোর রাজধানী প্রিস্তিনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঠে নেমেছে জেন-জিরা। সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত এই তরুণ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে রাজধানীজুড়ে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের পদত্যাগ এবং কাঠামোগত সংস্কারের সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। প্রতিবেশী আলবেনিয়া ও সার্বিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই তরুণ বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় কসোভোর পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যা পুরো বলকান অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রিস্তিনার রাস্তায় লাল রঙের প্রতিবাদ ও সংঘর্ষ
প্রিস্তিনায় সরকারি ভবনগুলোর সামনে হাজার হাজার তরুণ ও ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি ও সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতীক হিসেবে সরকারি ভবনের দেয়ালে লাল রং ছিটিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সম্প্রতি নারী নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এবং জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েক স্থানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। বর্তমানে তরুণরা অবস্থান কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
আঞ্চলিক জেন-জি সংযোগ (আলবেনিয়া ও সার্বিয়া)
কসোভোর এই ক্ষোভ কেবল দেশের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। আলবেনিয়ায় চলমান ফ্লেমিঙ্গো রেভোলিউশন নামে পরিচিত তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সার্বিয়ায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কসোভোর তরুণদের ওপর। এই তিন দেশের তরুণরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একে অপরের আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সমগ্র বলকান অঞ্চলে তরুণ প্রজন্মের এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংহতি গড়ে উঠেছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব: কসোভোসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তরুণ বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। দ্রুত বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই জেন-জি প্রজন্মকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
রাজনৈতিক অচলবস্থা ও দুর্নীতি: সরকারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলবস্থা, জবাবদিহিতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের ক্ষোভ জমছিল দীর্ঘদিন ধরে।
সরকারের অবস্থান: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও আন্দোলনরত তরুণরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ থামবে না।





