৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধ

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ৫ম দিনে গড়িয়েছে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার সংযোগ সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, সাভারের হেমায়েতপুর এবং গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, টিয়ার শেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দস্তাদস্তি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেখানে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

অন্যদিকে, সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সিংগাইর রোডের পদ্মার মোড়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এলাকাটি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।

পরে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ পুনরায় টিয়ার শেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসব সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকা ও বাসন থানার ভোগরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে হাজার হাজার শ্রমিক অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে সাড় ৯টার দিকে কয়েক হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে; তবে টিয়ার শেল ছুড়ে সড়ক খালি করা হয়েছে।

মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান জানান, দুষ্কৃতকারীরা মহাসড়ক অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।