চা শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত, পাতা নষ্টের অভিযোগে জিডি

হবিগঞ্জে ৩০০ টাকা মজুরির দাতিতে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত আছে। দাবি আদায় হলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে। দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সকালে এসব কথা বলেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের চানপুর চা বাগানের বাসিন্দা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল।

মঙ্গলবার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে শ্রীমঙ্গলে আসেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। তিনি ধর্মঘট স্থগিত করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে চা শ্রমিক ইউনিয়ন তা প্রত্যাখান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। একইভাবে বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে চা-বাগান মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরীর এই বৈঠক হয়। সন্ধ্যায় ৬টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় রাত ১১টায়। চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে প্রায় ৫ ঘণ্টার মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে চলমান ধর্মঘটও প্রত্যাহার করেননি শ্রমিকরা।

তাই জেলার ৪১টি চা বাগানে ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। তাদের একটাই দাবি শ্রমের মজুরি দৈনিক ৩০০ টাকা দিতে হবে, না হলে তারা ঘরে ফিরে যাবে না। শ্রমিক ধর্মঘটে চা বাগানের উৎপাদন বন্ধ আছে। এতে লাখ লাখ টাকার পাতার ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় অচল হয়ে পড়েছে চা বাগানগুলো।

এদিকে, ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময়ে শ্রীমঙ্গলের ৫টি চা বাগানের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ডায়েরিতে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে কাঁচা চা পাতা ও রাবারের লেটেক্স (কষ) নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির। শ্রীমঙ্গল থানায় করা সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা যায়, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে কাঁচা চা পাতা নষ্ট হচ্ছে যে সব বাগানে তারমধ্যে রাজঘাট চা বাগানের কারখানায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৫ কেজি, ডিনস্টন চা বাগানের কারখানায় ৯৯ হাজার ২৫০ কেজি, বালিশিরা চা বাগান কারখানায় ৫০ হাজার ২০৭ কেজি, আমরাইল চা বাগান কারখানায় ৫ হাজার ৬৮৩ কেজি কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে গেছে৷ অপরদিকে জাগছড়া চা বাগানে ২ হাজার ৩০৫ লিটার লিটেক্স (কষ) নষ্ট হয়ে গেছে। শ্রমিকরা ধর্মঘট ডেকে কাজ বন্ধ রাখায় উত্তোলিত চা পাতা ও রাবারের কষগুলো প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না৷ তাই এই কাঁচা পাতাগুলো ও কস কারখানায় থেকে নষ্ট হচ্ছে এবং এতে তাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে৷

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগান, ডিনস্টন চা বাগান, আমরাইল ছড়া চা বাগান, বালিশিরা চা বাগান ও জাগছড়া চা বাগান এই ৫ টি চা বাগানের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজাররা বাদি হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় গত (১৬ আগস্ট) রাতে ও আজকে ((১৭ আগস্ট) রাতে আলাদা আলাদা ভাবে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, তারা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবেন।

চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার ৭০৩.২৪ হেক্টর জমিতে ২৫টি ফ্যাক্টরিযুক্ত চা বাগান রয়েছে। এছাড়া ফাঁড়িসহ প্রায় ৪১টি বাগানের প্রায় প্রতি হেক্টর জমিতে ২২-২৫ শ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়। এসব বাগানে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড ও চা-শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবমিলিয়ে ২৫৬টি চা-বাগান আছে। এতে নিবন্ধিত শ্রমিকের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজারের উপরে। অস্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ৩০ হাজার। দেশে মোট চা শ্রমিক পরিবারের বাসিন্দা প্রায় ৮ লাখ। এর মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার। বাগানে কাজ না পেয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।