যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে প্রিন্স হ্যারি ও তার পরিবারের ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ ছয় বছর বসবাসের পর হ্যারি ও মেগানের ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, তিনি শুরু থেকেই এই রাজপরিবারের সমালোচক দম্পতির ভক্ত ছিলেন না এবং তাদের এই দেশত্যাগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘স্বস্তি বোধ’ করছেন।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংলাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। আমি কখনোই তাদের অনুরাগী ছিলাম না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করে বলেন, রাজপরিবারকে যেভাবে হ্যারি ও মেগান অবমূল্যায়ন করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়েছে তারা ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করেছেন, যা আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিশেষ করে সাসেক্সের ডিচেস মেগান মার্কেলকে লক্ষ্য করে কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, তার আচরণ এবং কর্মকাণ্ড আমার মোটেও ভালো লাগেনি। তিনি রাজপরিবারের প্রতি চরম অবমাননাকর আচরণ করেছেন। বক্তব্যে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, আমি যদি ব্রিটিশ রাজপরিবারের পদে বা দায়িত্বে থাকতাম, তবে কোনোভাবেই তাদের আর ফিরিয়ে নিতাম না।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে রাজপরিবারের রাজকীয় দায়িত্ব ও খেতাব ত্যাগ করে এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আগস্টের শেষের দিকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারসহ ফের ব্রিটেনে প্রত্যাবর্তন করেন। আমেরিকায় অবস্থানকালে একটি বহুল আলোচিত অপরাহ উইনফ্রের সাক্ষাৎকারে হ্যারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ এনেছিলেন। অন্যদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ মা ও শ্বেতাঙ্গ বাবার সন্তান মেগান মার্কেল অভিযোগ তোলেন যে, তাদের প্রথম সন্তান গর্ভে থাকাকালে তার গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে তা নিয়ে রাজপরিবারের অভ্যন্তরে উদ্বেগ ও একাধিক আলোচনা হয়েছিল।
তৎকালীন সময়ে এসব বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে প্রিন্স হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম দৃঢ়ভাবে পরিবারকে রক্ষা করে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমাদের পরিবার কোনো বর্ণবাদী পরিবার নয়। রাজপরিবার ত্যাগের স্বপক্ষে হ্যারি সব সময়ই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত নজরদারি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ এবং তাদের পরিবারের জন্য তৎকালীন যুক্তরাজ্য সরকারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতাকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করে এসেছিলেন।
বর্তমানে ব্রিটেনে ফিরে আসলেও হ্যারি এবং মেগান রাজপরিবারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাজকীয় দায়িত্বে ফিরছেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দম্পতির নিকটস্থ একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, তারা তাদের দুই সন্তান সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে লন্ডনের বাইরে কোনো নিরিবিলি স্থানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করার পরিকল্পনা করছেন। শিশুদের পড়ালেখাও এখন থেকে ব্রিটেনের স্কুলেই পরিচালিত হবে।
দীর্ঘদিন পর হ্যারি-মেগানের হুট করে মত পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ স্পষ্ট না হলেও হ্যারি একাধিকবার ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি চান তার সন্তানরা নিজেদের মাতৃভূমি ব্রিটেনেই বেড়ে উঠুক।
সূত্র: রয়টার্স





