প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা বার বার হামলার শিকার হয়েছে। প্রতি পদে পদে আমরা আঘাতের স্বীকার হয়েছি। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে প্রতিশোধ নিতে যাইনি। কাউকে কারাগারে পাঠাইনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আমলে যেসব মামলা হয়েছিল সেগুলোই চলছে’।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্মরণে সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা খালেদা জিয়ার বক্তৃতাগুলো দেখবেন। এসব বক্তৃতায় বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এমনকি বিরোধী দলেও থাকতে পারবে না। তার মানে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা তারা নিয়ে ফেলেছিল’।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতা থেকে আমরা যারা সেদিন বেঁচে গেছি তাদের যেন নতুন করে জন্ম হয়েছে। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে জনগণের কল্যাণে আমি দায়িত্ব পালন করে যাবো’।
দেশের মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য দিনরাত কাজ করছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।’ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সারাবিশ্বে জ্বালানি তেলের অভাব, বিদ্যুতের অভাব, মুদ্রাস্ফীতি। আমরা তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। বিদ্যুতের ব্যবহার আমাদের সীমিত করতে হয়েছে। সার উৎপাদন অব্যাহত রেখেছি। গ্যাস উৎপাদন এবং সার্ভে অব্যাহত রেখেছি। আমরা সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক কোটি লোক রেশনের আওতায় আসছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না দেশের মানুষ কষ্ট পাক বা খাদ্যে কষ্ট পাক। রাজনীতি করি তাদের জন্য। হয়তো আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের কল্যাণের কারণে। রাখে আল্লাহ মারে কে? দেশের এমন কোনো জায়গা নাই মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। তারপরও ফিরে এসেছি মানুষের কল্যাণ করার জন্য।
যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবার সহযোগিতা দরকার। সবাইকে কাজ করতে হবে। শুধু সমালোচনা করলে হবে না।
২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা কথা তুলে দরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সেজন্য বেঁচে গিয়েছিলাম। আজকে ২০২২ প্রায় ১৮ বছল হয়ে গেলো। যারা স্প্রিন্টার নিয়ে আছে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ। যতো বয়স বেড়েছে তত খারাপ হচ্ছে।
‘আমি সাধ্যমতো করে যাচ্ছি। কিন্তু তারা যা হারিয়েছে তাতো আমরা দিতে পারবো না। এই যে কষ্টগুলো নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে, এগুলো কেউ চিন্তা করে? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বারবার আঘাতের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার সময়ে কর্নেল রশিদ, জাহিদ বাংলাদেশে ছিলো উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যখন দেখছে যে আমি মরি নাই তখন তারা দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে। তাহলে তাদের কে এনেছিলো। যদি সরকার থেকে সাহায্য না করে তাহলে তার আসলো আবার চলে গেলো কিভাবে? খালেদা জিয়া যেভাবেই হোক দেশ থেকে চলে যেতে সাহায্য করেছে।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যগুলো একটু অনুসরণ করেন। কোটালিপাড়ায় বোমা পুতে রেখেছিলো, তখন খালেদা জিয়া বলেছিলো, আওয়ামী লীগ একশ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আবার বলেছিলো শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসা তো দুরের কথা বিরোধীদলও হতে পারবে না। কারণ তাদের উদ্দেশ্যই ছিলো আমাকে মেরে ফেলা।
তিনি বলেন, বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ মেরেছে, এটাই তাদের উদ্দেশ্য। এখন তাদের সাথে কথা বলতে হবে। নির্বাচনে আনতে হবে। কেন? দেশে কি আর মানুষ নেই। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা সেই সন্ত্রাসের সময়ে ফিরে যাবে নাকি উন্নয়ন অগ্রগতির সঙ্গে থাকবে।
এ সময় আবার ষড়যন্ত্র হতে পারে আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান যাতে না ঘটতে পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।
এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্টের নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।





