বাংলাদেশের যখন সবচেয়ে বেশি উইকেটের প্রয়োজন, তখনই যেন আবির্ভাব ঘটে তাসকিন আহমেদের। প্রতিপক্ষের জমে ওঠা জুটি ভেঙে ম্যাচে ফেরার গল্পে এই পেসারের নাম নতুন নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ, ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় কিংবা ইংল্যান্ডকে হারানো বিশ্বকাপ ম্যাচ-বারবার ব্রেক থ্র এনে দেওয়ার ভূমিকায় দেখা গেছে তাসকিনকে। চলমান অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও সেই পরিচিত দৃশ্যেরই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বেশ ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার ব্রাটলেট গড়ে তোলেন শতরানের জুটি। বাংলাদেশের বোলাররা জুটি ভাঙতে চেষ্টা চালালেও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সাফল্য মিলছিল না। ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাসকিন।
পুরোনো বল হাতে নিয়ে টানা দুই বলে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সেই আঘাতেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ। তাসকিনের ওই দুই উইকেট বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বোঝা যায় ম্যাচের সমীকরণে। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। কিন্তু ওই দুই উইকেট না পেলে মিরাজদের ৪১ ওভারে করতে হতো ২১৮ রান।
বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর সেই স্পেলে তাসকিনের অস্ত্র ছিল রিভার্স সুইং। মিরপুরে তার বল যেন মনে করিয়ে দিয়েছে কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামের জাদুকরী সুইংয়ের কথা। অবশ্য তাসকিনের এই সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে আইসিসির ওয়ানডে ক্রিকেটে আনা নতুন নিয়মও।
২০২৫ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে বল ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগে দুই ইনিংসেই দুই প্রান্ত থেকে দুটি নতুন বল ব্যবহার করা হতো। ফলে বল খুব বেশি পুরোনো হওয়ার সুযোগ পেত না, রিভার্স সুইংও দেখা যেত কম।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ৩৪ ওভার দুই বল ব্যবহার করা হলেও ৩৫তম ওভার থেকে একটি বলই দুই প্রান্ত থেকে ব্যবহার করা হয়। এতে বল দ্রুত পুরোনো হয় এবং বোলারদের জন্য রিভার্স সুইংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এই নিয়মের সুফলই পেয়েছেন তাসকিন। পুরোনো বলে তিনি আদায় করেছেন ভয়ংকর রিভার্স সুইং। বলের চকচকে অংশকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন অসাধারণ মুভমেন্ট, যা নতুন বলেও খুব একটা দেখা যায় না। তার সেই নিখুঁত রিভার্স সুইং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চরম বিপদে ফেলেছে।
আইসিসির নতুন নিয়ম তাই শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটে বোলারদের নতুন সম্ভাবনাই তৈরি করেনি, বাংলাদেশের জন্যও এনে দিয়েছে এক নতুন অস্ত্র। রুবেল হোসেনের পর তাসকিন আহমেদের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবারও আলোচনায় ফিরেছে রিভার্স সুইং।





