ভিসা জটিলতায় বিপাকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের ১১ জনের প্রবেশ নিষিদ্ধ

বিশ্বজুড়ে যখন ফিফা বিশ্বকাপের উত্তেজনা তখন বড় ধরনের ভিসা জটিলতায় পড়েছে ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়ে দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক স্টাফ এখনো ভিসা না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ভিসা না পাওয়া ১৫ জন প্রতিনিধির মধ্যে কয়েকজন পুনরায় আবেদন করেন। আপিলের পর চারজন ভিসা পেলেও বাকি ১১ জন এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

ভিসা পাওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন দলের একজন টেকনিক্যাল বিশ্লেষক এবং ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা। তবে পুনরায় আবেদন করেও ভিসা পাননি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ, একজন সহ-সভাপতি, দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন মিডিয়া কর্মকর্তা ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আরও একজন মিডিয়া কর্মকর্তা প্রথমবার আবেদন বাতিল হওয়ার পর দ্বিতীয়বার আবেদন করেননি।

গত সপ্তাহে ইরান অভিযোগ করেছিল, জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরুম স্টাফকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ওয়াশিংটন আগেই জানিয়েছিল, খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শিবির যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করেছে। সেখান থেকেই দলের কর্মকর্তারা নতুন করে ভিসার আবেদন করেন।

বিশ্বকাপে ইরানের অভিযান শুরু হবে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

এদিকে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ গ্রুপপর্বের টিকিট কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে সমালোচনা তৈরি হলেও ফিফা জানিয়েছে, ইরানি সমর্থকদের মাঠে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও ছিল।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, টুর্নামেন্টে ইরানের খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু আইআরজিসি-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এর আগেও কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসের এ অংশ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিলেন ইরানের প্রতিনিধিরা। আইআরজিসির সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের অভিযোগে তাদের কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

শুধু ইরান নয়, এবারের বিশ্বকাপে ভিসা ইস্যুতে আরও কয়েকটি দেশ ও ব্যক্তি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানও বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজক দেশের অন্যতম দায়িত্ব হলো যোগ্য দল, কর্মকর্তা ও রেফারিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা ফুটবলের সার্বজনীন চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলে সদস্যসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে সংস্থাটি সর্বোচ্চ ৫০ জন প্রতিনিধির ব্যয় বহন করে থাকে। ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র : আল জাজিরা