হলান্ডের জোড়া গোলে চোখের জলে বিশ্বকাপ শেষ ব্রাজিলের

সেই ভয়ের ফাঁদেই যেন সর্বনাশ ব্রাজিলের! ইতিহাস পাল্টানো হলো না। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ হেরে চোখের জলে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেয়ে গেল নরওয়ে। ম্যাচে তারা জিতেছে ২-১ গোলে।

একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করেন নেইমার। কিন্তু ততক্ষণে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না তাদের। এনিয়ে পাঁচবারের মোকাবেলায় নরওয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপে আর জয় দেখা হলো না লাতিন আমেরিকার এই দেশটির।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। যোগ করা সময়ে নেইমার জুনিয়র পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ব্রাজিলের বিদায় ঠেকাতে পারেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়েছিল নরওয়ে। তবে প্যাট্রিক বার্গের সেই গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর দশম মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ডি-বক্সে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করলে ভিএআরের সহায়তায় স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু ব্রুনো গুইমারেসের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।

পেনাল্টি মিসের পরও ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শেষদিকে কুনহা ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করলেও নরওয়ের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেননি। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। নরওয়ে দুটি পরিবর্তন এনে অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপকে মাঠে নামায়। অন্যদিকে ৫৮তম মিনিটে কুনহার পরিবর্তে এন্দ্রিককে নামান ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নেমেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ পাস থেকে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। এরপর ৬২তম মিনিটে রায়ানের দূরপাল্লার শট এবং এক মিনিট পর গুইমারেসের সুযোগও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন নাইল্যান্ড।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে নেইমার জুনিয়রকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণভাগে নতুন গতি আনার চেষ্টা করে ব্রাজিল। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি লাতিন আমেরিকার দলটি। বরং ৭৯তম মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত এক হেডে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।

গোলের পরও আক্রমণ থামাননি হালান্ড। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট আলিসনের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়িয়ে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল শোধ করলেও তাতে কেবল ব্যবধানই কমে। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। অন্যদিকে গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল শেষ ষোলোর মঞ্চেই!