অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ জাহের আলভীকে স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জাহের আলভী স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তাঁর আইনজীবী জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। পরে আদালত মামলার নথিপত্র, অভিযোগের গুরুত্ব এবং তদন্তের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে আফরা ইভনাথ খান ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় জাহের আলভী দেশের বাইরে নেপালে ছিলেন বলে জানা যায়।

ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পরে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি, মানসিক চাপ ও নির্যাতনের কারণে তাঁর মেয়ে চরম হতাশায় ভুগছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জাহের আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করা হয়।

শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি জাহের আলভীর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়, যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, জাহের আলভী ও আফরা ইভনাথ খান ইকরা ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। ইকরার মৃত্যুর পর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিকেই সবার নজর।

আইনগতভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত জাহের আলভীর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখে তদন্তের অগ্রগতি ও অন্যান্য তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।