দেশের চার বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে। এতে ওইসব বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তিন দিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় পারের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এ বৃষ্টি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে এর প্রভাবে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বেড়েছে। বৃষ্টিতে কিছু নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম,
ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা তিন দিন থাকতে পারে। এর পর থেকে অর্থাৎ শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদীর পানিই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজান এলাকায়ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতীয় উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার, ধরলাসহ কয়েকটি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির কারণে বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বাড়ার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। যার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। বিশেষ করে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকায় গত কয়েক দিনে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্পার বাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে গেছে। এ ছাড়া মূল বাঁধও এখন মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।





