দেশে চলমান ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষের দুর্দশা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। মানুষের দুঃখ দুর্দশা আর হাহাকার দেখে তিনি স্থির থাকতে পারেননি। পত্রিকায় প্রকাশিত দুর্দশার ছবি শেয়ার করে তার ভেরিফায়েড ফেইসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি। ভুলে যাননি চারদিকে অবলা গৃহপালিত প্রাণীগুলোকেও। তাদেরও একটু নিরাপদ আশ্রয় ও খাবার দেওয়ার আহ্বান করেছেন পশুপ্রেমী এ অভিনেত্রী।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেইসবুকে তিনি লিখেন, “গত কয়েকটা দিন ধরে চারদিকের জলমগ্ন ছবিগুলো, মানুষের হাহাকার আর অসহায়ত্ব দেখে কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারছি না। বুকটা ভারী হয়ে আসছে। আমাদের দেশটা আজ কী ভীষণ এক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলমগ্ন প্রতিটি মুখ, আশ্রয়হীন প্রতিটি পরিবার আর অবোধ শিশুদের জলছল চোখগুলো সারাক্ষণ চোখের সামনে ভাসছে।
কিন্তু মানুষের এই লড়াইটা শুধু পানি কমার নয়। আসল যুদ্ধটা হয়তো শুরু হবে পানি নেমে যাওয়ার পর।
পানি কমলেই ধেয়ে আসবে নানা রকম পানিবাহিত রোগব্যাধি। এই সময়ে আমাদের একটুখানি অসচেতনতা কিন্তু আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই দয়া করে এখন থেকেই সবাই সর্বোচ্চ সতর্ক হোন। নিরাপদ পানি ও শুকনো খাবারের পাশাপাশি আমাদের একটু বাড়তি নজর দিতে হবে আমাদের চারপাশের সবচেয়ে সংবেদনশীল মানুষগুলোর প্রতি, আমাদের ঘরের এবং আশেপাশের বৃদ্ধ মানুষগুলো, গর্ভবতী মায়েরা আর কোমলমতি শিশুরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি অসহায়। নোংরা পানি আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে ওদের একটু আগলে রাখুন। ওদের মানসিক আর শারীরিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নিন “
বন্যাকবলিত জনপদে বিপদে থাকা পশু সমন্ধে এ পশুপ্রেমী লিখেছেন, “আর একটা অনুরোধ, আমাদের আশেপাশের অবলা গৃহপালিত প্রাণীগুলোর কথা ভুলবেন না যেন। বিপদের এই দিনে ওরা তো মুখে ফুটে কষ্টের কথা বলতে পারে না। বুকফাটা আর্তনাদ নিয়েও ওরা শুধু চেয়ে থাকে। আপনার সাধ্যমতো ওদের একটু নিরাপদ শুকনো জায়গা দিন, একটুখানি খাবার দিন। ওরাও তো আমাদের এই প্রকৃতিরই অংশ, আমাদের পরিবারের মতোই।”
তিনি আরও লিখেন, “দুর্যোগ হয়তো আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে, কিন্তু আমাদের ভেতরের মানুষত্ব আর সহমর্মিতা যেন হেরে না যায়। আমরা যদি নিজের জায়গা থেকে সচেতন হই, একে অপরের হাতটা শক্ত করে ধরি এই কঠিন সময় ঠিকই কেটে যাবে।
সবাই সাবধানে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। প্রার্থনা আর ভালোবাসা সবার জন্য।”





