ফুটবল বিশ্বের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড আবারও মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে এই দুই দল। যেখানে ইতিমধ্যেই ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে এবং ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ১৯৯৮ সালের সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল থ্রি-লায়নসদের। স্বাভাবিকভাবেই ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে ইংলিশরা।
১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক নকআউট ম্যাচটি মূলত ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড দেখার জন্য ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে সেই লাল কার্ডের নাটকীয়তার আগেও ম্যাচে ঘটে গিয়েছিল অনেক কিছু। খেলার মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যান। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মাত্র এক মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তবে দমে যায়নি ইংলিশরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে অ্যালান শিয়ারের পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান এবং ১৭ মিনিটে মাইকেল ওয়েনের দর্শনীয় গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমে হাভিয়ের জানেত্তির দুর্দান্ত গোল আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘটে সেই বহুল আলোচিত ঘটনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে মাত্র ৯ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। বাকিটা সময় ৯ জন নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ইংলিশ রক্ষণভাগ। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল করতে দেয়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলেরই ছয়টি করে শট নেওয়ার পর ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের পক্ষে পেনাল্টি মিস করেন পল ইনস ও ডেভিড ব্যাটি। সেই সাথে প্রথম লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে আগেই মাঠ ছাড়া ডেভিড সিম্যানের শট মিসের হতাশা ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত করে।





